নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: বি জে মেডিক্যাল কলেজের একটি হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়েছে ১১ বছরের পুরনো একটি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বোয়িং বিমান। বিমানটিতে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি মজুত ছিল। ভেঙে পড়ার পরেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। মোট ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে। বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
২৩০ জন যাত্রী এবং ২ জন পাইলট সহ মোট ১২ জন ক্রু মেম্বার ছিলেন বিমানে । ৫৯ জন বিদেশি যাত্রী ছিলেন। তার মধ্যে কানাডার ছিলেন ১ জন, ব্রিটেনের ৫২ জন, পর্তূগালের ৬ জন। ২৪২ জনেরই মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪০ জন যাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে ১৭৯ জনের মৃত্যুর। চলছে উদ্ধার কার্য। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরই জানিয়েছেন তিনি নিজেও আহমেদাবাদে যাচ্ছেন।
বোয়িং বিমান দুর্ঘটনা এটি প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার বোয়িং দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি বোয়িং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৮০ জন মারা যান। সেই বিমানটি ছিল ৭৩৭ মাক্সের একটি নয়া সংস্করণ।
২০২৪ সালে জানুয়ারিতে বোয়িং ৭৩৭ মাক্সের একটি বিমানের দরজার প্লাগ উড়ে যায়। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে বেশ কয়েকটি বোয়িং ৭৩৭ মাক্স বিমানগুলি বিধ্বস্ত হয়। যার মধ্যে রয়েছে লায়ন এয়ার ফ্লাইট ৬১০ এবং ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩০২। এর ফলে বোয়িং বিমান নিয়ে প্রচুর সমালোচনা শুরু হয়। যার কারণে বিমান তৈরীর সংস্থাটি ৩০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুর্ঘটনায় ১৮৯ এবং ১৫৭ জন প্রাণ হারান। তবে বোয়িং ৭৩৮-৮০০ এখনও পর্যন্ত চালু রয়েছে। বোয়িং বিমানগুলি যখন ক্রমাগত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছিল তখন বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে ম্যানুভ্যারিং ক্যারেক্টারিস্টিকস অগোমেন্টেশন সিস্টেম সম্পর্কিত একটি সমস্যা ধরা পড়ে। এই সিস্টেমটি ম্যানুয়াল অবতরণের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু পাইলটদের এই বিষয়ে বিশেষ কিছু জানানো হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা অনিবার্য ছিল। ২০১৮-১৯ বর্ষের ৩৪৬ জন যাত্রী মারা যাওয়ার পর এই বিমানের সিস্টেমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বিমানটি আপডেট করে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নামে চালু হয়।
আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিম লাইনার ভেঙে পড়েছে। এই মডেলের বোয়িংয়ের দুর্ঘটনা এই প্রথম। ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়ার পর আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা জাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার আগে সারা বিশ্বে অন্তত ৬০০০ বোয়িং বিমান দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৫টি প্রাণঘাতী ছিল। ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।
বিশ্বজুড়ে যত যাত্রী ফ্লাইটে নিত্যদিন যাতায়াত করেন তার মধ্যে চার হাজারেরও বেশি বিমান বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি বোয়িং বিমান ব্যবহৃত হয়। ফলে এটি সর্বাধিক বিক্রীত বিমান বলাই যায়। তারপরেও কেন বারবার দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় বোয়িং, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।