আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিটি মানুষের জীবনেই একজন ভাল বন্ধুর প্রয়োজন। সেই বন্ধু এমন হবে যার সঙ্গে ভাবনা চিন্তা না করেই মনের কথা খুলে বলা যায়। রূপকথায় রাজপুত্রের বন্ধু হতেন মন্ত্রীপুত্র, কোটালপুত্ররা। কিন্তু বাস্তবে রাজপুত্রদের জীবন তো বদ্ধ। তাঁদের সকলের সঙ্গে কথা বলা বারন, যে কোনও জায়গায় যাওয়া বারণ। একাকীত্ব তাঁদের যেন নিত্যসঙ্গী। ঠিক যেমন অবস্থা এখন প্রিন্স হ্যারির। ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রী মেগান মার্কেল এবং দুই সন্তানের সঙ্গে ১৪ মিলিয়ন ডলারের ইতালীয় ধাঁচের একটি প্রাসাদে বাস করেন রাজপুত্তুর। কিন্তু মনে তাঁর শান্তি নেই। বন্ধ দরজার আড়ালের জীবন যে ডিউক অফ সাসেক্সের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি।
রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র মারফত শোনা যাচ্ছে প্রিন্স হ্যারি মারাত্মক একাকীত্ব রোগে ভুগছেন। তিনি দীর্ঘদিনের বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। লন্ডন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে বন্ধুত্বের পরিবেশ পাচ্ছেন না তিনি। কিন্তু লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, পোলো তারকা নাচো ফিগুয়েরাস ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর আর কোনও প্রকৃত বন্ধু নেই। নাচো নিয়মিত খেলার জন্য ভ্রমণ করেন। সেই সময় হ্যারি দেহরক্ষীদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটান।
ব্রিটেনে হ্যারির ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবের তালিকায় ছিলেন গাই পেলি, মার্ক ডায়াররা। কিন্তু এখন তাঁদের সঙ্গেও সবসময় দেখা হয় না। নাচো, মেগান এবং সন্তানরা ছাড়া এখন আর রাজপুত্রের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার মতো আর কেউ নেই।
২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর হ্যারির সামাজিক পরিসর ছোট হয়ে গেছে। ছোটবেলায় যত ভাল আর তাড়াতাড়ি বন্ধুত্ব হয় বড় হয়ে তেমনটা হয় না, সময় লাগে। বিশেষ করে যেখানে হ্যারি একজন রাজপুত্র, তিনি হঠাৎ করে কারও সঙ্গেই বন্ধুত্ব করতে পারেন না। তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় থেকেই যায়।
হ্যারির একজন বন্ধু তো তাঁর বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা প্রপিতামহ অষ্টম এডওয়ার্ডের সাথে করেছেন। অষ্টম এডওয়ার্ড প্রেমের জন্য সিংহাসন ছেড়েছিলেন। তিনি ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করার জন্য ব্রিটিশ সিংহাসন ত্যাগ করে বাকি জীবন বিদেশে কাটিয়েছিলেন। মূলত রাজপরিবার থেকে দূরে ছিলেন এডওয়ার্ড। রাজপুত্রের বন্ধুর মতে, সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।