নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতের চালানো অপারেশন সিঁদুর অভিযান এবং পরবর্তী ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে চর্চা চলেছে গোটা বিশ্বে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাব্বি করেছেন তিনি বাণিজ্য ‘প্রলোভন’ দেখিয়ে দুই দেশকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করেছেন। ট্রাম্পের দাবি নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলেছে বিস্তর। ভারত-পাক আকাশযুদ্ধে পাকিস্তান ও ভারতের আর এক প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের দাবি ছিল, পাকিস্তান একাধিক ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করেছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলেছে রসিকতা। ভারতবাসী বিশ্বাসই করতে চায়নি এমনটা হতে পারে। তাছাড়া, এতদিন ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও আসেনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। এই প্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনী নিশ্চিত করল যে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষকালে বেশ কিছু সংখ্যক যুদ্ধবিমান হারিয়েছে ভারত। সেই সংখ্যাটা কত তা এখনও জানা যায়নি।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অনিল চৌহান শনিবার সিঙ্গাপুরে সাংরি-লা ডায়লগে অংশ নেওয়ার সময় এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কেন তারা ভূপাতিত হচ্ছে সেটাই জানা জরুরি।”
পাকিস্তান দাবি করেছিল তারা ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এই তথ্যকে ‘একেবারে ভুল’ বলে নস্যাত করে দিয়েছেন সিডিএস জেনারেল চৌহান। তবে স্বীকার করেছেন যে ‘বেশ কয়েকটি’ যুদ্ধবিমান ভারত হারিয়েছে।
ইন্ডিয়ান আর্মড ফোর্সের প্রধান বলেন, “ভাল দিক হল আমরা যে কৌশলগত ভুল করেছি তা বুঝতে পেরেছি। তারপর তা সংশোধনও করতে পেরেছি। দু’দিন পর আবার তা বাস্তবায়নও করতে পেরেছি। লং রেঞ্জ লক্ষ্য করে তারপর আমাদের সমস্ত বিমান আমরা আবার উড়িয়েছি।”
প্রসঙ্গত মে মাসের শুরুতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছিলেন যে তাঁর দেশ ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এই দাবি যাচাই করা হয়নি। ভারত সরকার যুদ্ধে সত্যিই বিমান হারিয়েছে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিল শুক্রবারের আগে পর্যন্ত।
সদ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন তিনি না থাকলে ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হত। এই তথ্যকে ভুল বলে দাগিয়ে দিয়েছেন চৌহান। অত্যন্ত কৌশলীভাবে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে প্রচলিত অভিযান পরিচালনা এবং পারমাণবিক সীমার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম সর্বদা খোলা ছিল। উত্তেজনা বৃদ্ধির সিঁড়িতে আরও কিছু উপ-সিঁড়ি ছিল যেগুলিকে পারমাণবিক অস্ত্রের আশ্রয় না নিয়েই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজে লাগানো যেতে পারত।”
পাকিস্তান সন্ত্রাস পোষে, এই তথ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে কেন্দ্র। একই কাজ করেছে পাকিস্তানও।