আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যৌনতা প্রতিটি মানুষের জীবনেই খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। সম্প্রতি একটি খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এক মহিলা কারা আধিকারিক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন এক বন্দির সঙ্গে। সম্প্রতি তিনি তাঁর আচরণের কথা স্বীকার করেছেন।
ওই আধিকারিকের নাম মেগান গিবসন। তিনি পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের এইচএম প্রিজন ওয়েলস্টুনে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় ওই আধিকারিক বন্দির প্রেমে পড়েন। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী বন্দিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে দেখতে গিয়েছিলেন। কারাগারের সীমাবদ্ধ এলাকাতে তাঁর প্রবেশাধিকার ছিল। সেই সময় ওখানে তিনি বন্দির সঙ্গে ফোন সেক্স করেন। তারপর বন্দির মাকে কমপক্ষে ৯০০টি মেসেজ পাঠিয়ে বলেন এই সম্পর্কের কথা কেউ যেন জানতে না পারে।
সরকারি চাকরিতে অসদাচরণের জন্য গিবসন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। তিনি নিজের কাছে মাদক রাখার কথাও স্বীকার করেছেন। গাঁজা রাখার কথাও স্বীকার করেছেন। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের লিডস ক্রাউন কোর্টের বিচারক গিবসনকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে।
পরে গিবসনকে নিঃশর্ত জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারক জোর দিয়ে বলেন যে তার অপরাধ একটি গুরুতর বিষয়। গিবসনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, গিবসন পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের এইচএম কারাগারে ওয়েলস্টুনে কর্মরত থাকাকালীন বন্দির সঙ্গে ফোন সেক্স করেছিলেন। তাঁর আইনিজীবী বলেছিলেন, গিবসন অতীতের সম্পর্কের কারণে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) তে ভুগছিলেন এবং একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
সরকারি চাকরি করে জেল বন্দির সঙ্গে যৌনতা বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি কর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলে গৃহীত হয়। এর আগে ২৩ বছর বয়সী ইসাবেল ডেলকে মে মাসে দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের কেন্টের উচ্চ-নিরাপত্তা কেন্দ্রে দুই বন্দির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং তাদের সঙ্গে মাদক চুরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ব্রিটেনের এক মহিলা কারারক্ষী একজন বন্দির সঙ্গে ‘অনুপযুক্ত’ সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বন্দিদের সাথে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে কমপক্ষে ২৯ জন যুক্তরাজ্যের মহিলা কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।