নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশকে জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য বানাতে কোনও নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না বলে খুল্লামখুল্লা হুঙ্কার ছেড়েছেন পাকিস্তানি গুপ্তচর নাহিদ ইসলাম-সারজিস আলমরা। আজ শুক্রবার (২ মে) বায়তুল মোকাররমে মসজিদের বাইরে পাকিস্তানিদের এক সমাবেশে তদারকি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দুই পাক গুপ্তচর বলেন ‘আওয়ামী লীগের বিচার ও সংস্কারের আগে এই দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। নির্বাচন করার চেষ্টা হলে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেব। লাশের পাহাড় জমবে। ওই রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার মতো আগ্নেয়াস্ত্র ইতিমধ্যেই আমরা সংগ্রহ করেছি।’
সমাবেশে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মুখ্য এজেন্ট সারোয়ার তুষার ভারতের বিরুদ্ধে বিষ ঢেলে বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের আড়ালে পাকিস্তান ভাগ করেছিল দিল্লির শাসকরা। ওই সিদ্ধান্ত শুধরে নেওয়ার সময় এসেছে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের কোনও ইতি যেমন থাকবে না, তেমনই কোনও মুক্তিযোদ্ধাও থাকবে না। পাকিস্তান ভাঙার হোতা শেখ মুজিবের বাড়ি ভেঙে যেমন গুঁড়িয়ে দিয়েছি তেমনই মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যারা পরিচয় দেওয়ার দুঃসাহস দেখাবেন তাদের কচুকাটা করব। যেমন একাত্তরে আমাদের পূর্বসূরি আল শামস-আল বদরের সদস্যরা করেছিলেন। বাংলাদেশে যেমন আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর চলবে না, তেমনি চলবে না ভারতপন্থী বা দিল্লির নির্দেশে পরিচালিত কোনও রাজনীতি। এ দেশ হবে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির দেশ। যারা দিল্লির এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চাইবেন, তাদের প্রতিহত করা হবে। আপনারা নির্বাচন করতে চান, আমরাও প্রস্তুত। কিন্তু নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল এবং দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।’
একাত্তরের সময়ে পাক হানাদার বাহিনী ও গণহত্যাকারীদের দোসর মতিউর রহমান নিজামির নাতনি তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র তাজনূভা জাবিন বলেন ‘একাত্তরে ভারতের দালাল মুক্তিযোদ্ধাদের খুনে বাংলাদেশের নদী-নালা যেমন লাল করে দেওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয়বার তা করার সময় এসেছে। কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগ বলে পরিচয় দিলে তার ধর-মুণ্ডু আলাদা করে দেবেন। বাংলাদেশের পুলিশ বা সেনার হিম্মত হবে না আপনাদের স্পর্শ করার।’
পাকিস্তানি এজেন্ট নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান ভাঙার মতো অপরাধ করা দলকে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেব না। তদারকি সরকার কিংবা সেনাবাহিনীর কেউ যদি সেই চেষ্টা চালায় তাহলে তাদের পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়েও করুণ হবে। জুলাই-অগস্টে যা দেখিয়েছি তার চেয়েও দেশের অবস্থা ভয়াবহ করব। পাকিস্তান সরকার আমাদের পাশে আছে। ফলে ভারতকে আর ভয় পাই না।’