নিজস্ব প্রতিনিধি : ভাঙড়ে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজও হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবারের রেশ রয়েছে মঙ্গলবারও। থমথমে রয়েছে গোটা এলাকা। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া পুলিশ ভ্যান, বাইক। সেগুলো সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে দাবি পুলিশের। এলাকায় নতুন করে যাতে অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য রয়েছে পুলিশি নজরদারি।
ওয়াকফের প্রতিবাদে এবার তপ্ত ভাঙড়, পুলিশ-আইএসএফ কর্মীদের সংঘর্ষ, অবরুদ্ধ বাসন্তী হাইওয়ে ভাঙড়ে জ্বলেছে আগুন। জানা গিয়েছে, ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে সোমবার রামলীলা ময়দানে বক্তব্য রাখার কথা নওশাদ সিদ্দিকির। সেই সভায় যোগ দিতেই উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বহু আইএসএফ কর্মী যাচ্ছিলেন রামলীলা ময়দানের উদ্দেশ্যে। যাওয়ার পথেই বাসন্তী হাইওয়েতে আইএসএফের গাড়ি আটকানোর কথা জানা গিয়েছে। তারপরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বাসন্তী হাইওয়েতে ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আইএসএফ কর্মীরা। বৈরামপুর, ভোজেরহাট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে আইএসএফ কর্মীরা। ভোজেরহাট তিন রাস্তার মোড় পুলিশের গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। সেখানেই অবরোধ শুরু করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে ফেলারও চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আইএসএফ কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে হাতাহাতি বেঁধে যায়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। বাসন্তী হাইওয়ের ওপরই দু’পক্ষের মধ্যে ধুন্ধুমার শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। তাতে একজন আইএসএফ কর্মীর মাথা ফাটে বলে অভিযোগ। এরপরই বাসন্তী হাইওয়েতে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আইএসএফের কর্মী, সমর্থকরা। সাংবাদিকদের একাংশের ওপরও আক্রমণ করা হয়েছে। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইটবৃষ্টি করা হচ্ছে।
ওয়াকফ সংশোধনী আইন কার্যকরী হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই আইনের প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন বিরোধীরা। দেশের পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই আইনের প্রতিবাদে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। পথে নেমে প্রতিবাদ মিছিল চলছে।