নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশজুড়ে চলা হানাহানি ও হিংসার বিরুদ্ধে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এবার দেশের জন্য নিজেদের ‘আত্মবলিদান’ দেওয়ার জন্য সেনা সদস্য ও আধিকারিকদের প্রস্তুত হওয়ার আর্জি জানালেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আর তাঁর ওই মন্তব্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আচমকাই সেনাপ্রধান কেন জীবন উৎসর্গের কথা বললেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল নানা ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী সেনানিবাসের শহিদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে ৭ম ‘কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জমানায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে পরোক্ষে সে কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রেজিমেন্টের আধুনিকীকরণ হয়েছে। নতুন নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠা, আধুনিক অস্ত্র সরঞ্জামাদি সংযোজনসহ ও উন্নয়ন কল্যাণমুখী কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রেজিমেন্টের প্রত্যেক সদস্যকে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বদা বদ্ধপরিকর আমি।’ দেশে বর্তমানে যে রাহাজানি ও হিংসা চলছে তা নিয়ে উদ্বেগও ধরা পড়েছে সেনাপ্রধানের কথায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, সেনা সদস্যরা দেশের প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকবে।’
প্রসঙ্গত গত মঙ্গলবার বিডিআর বিদ্রোহের বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন যে আমি সতর্ক করিনি। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা–ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম নইলে আপনারা বলবেন যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি।’
জামায়াত ইসলামী ও পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসাবে পরিচিত ইলিয়াস হোসেন, জুলকার নাইন সায়ের এবং পিনাকী ভট্টাচার্যের মতো স্বঘোষিত ইউটিউবার শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে লাগাতার সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিশানা করে চলেছেন। নাম না করে তাদের সতর্ক করে দিয়ে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বলেছিলেন, ‘বক্তব্যে সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণাত্মক কথা না বলার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘একটা কমন জিনিস আমি দেখতে পাচ্ছি, সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারও কারও। কী কারণে আজ পর্যন্ত আমি এটা খুঁজে পাইনি। আমরা হচ্ছি একমাত্র বাহিনী, যেটা আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, দাঁড়িয়ে আছি প্ল্যাটফর্মে। অফকোর্স নেভি অ্যান্ড এয়ারফোর্স, নেভি চিফ আবার মন খারাপ করে আবার ইয়ে করছে। নেভি, এয়ারফোর্স উই অল। আমাদের সাহায্য করেন, আমাদের আক্রমণ করবেন না। আমাদের অনুপ্রাণিত করেন, আমাদের উপদেশ দেন। …আমাদের প্রতি আক্রমণ করবেন না। উপদেশ দেন, আমরা অবশ্যই ভাল উপদেশ গ্রহণ করব। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই এবং দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’