নিজস্ব প্রতিনিধি : শাস্ত্র অনুযায়ী দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যার দেবী। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার মুখগহ্বর থেকে জন্ম হয়েছিল বিদ্যার দেবীর।শ্বেতপদ্মে আসীন দেবীর পরনে থাকে শ্বেতশুভ্র বস্ত্র। চার হাতে থাকে বীণা, রুদ্রাক্ষ ও পুস্তক। এই প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্ন অর্থ আছে। এখানে জল হল নির্মলতা বা শুদ্ধতার প্রতীক। পুস্তক বেদের কারক। জপমালা মনসংযোগ ও আধ্যাত্মিকতার কারক। বীণা সঙ্গীত বা ছন্দের কারক।সমস্ত দেব দেবীর কোন না বাহন থাকে। বিদ্যার দেবীকে দেখা যায় শ্বেতশুভ্র রাজহাঁসের পিঠে। জানেন কী এতকিছু প্রাণী থাকতে কেনই বা রাজহাঁসকে নিজের বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন দেবী সরস্বতী ? তবে জানুন এর নেপথ্যে কারণ কী?
আসলে হাঁস এমন একটি প্রাণী যা জল-স্থল ও অন্তরীক্ষে গমন বা বিচরণ করে। তাই হিন্দুশাস্ত্রে হাঁসকেই দেবীর বাহন বলা হয়েছে। শুধু হিন্দুই নয়, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মও এই দেবীর পুজো বা আরাধনার উল্লেখ পাওয়া যায়। রামায়নেও দেবী সরস্বতীর কথা উল্লেখ আছে।
বলা হয়, দুধ ও জলের মিশ্রণ থেকে জল রেখে শুধু দুধটুকুই গ্রহণ করতে পারে হাঁস। অর্থাৎ অসার ফেলে সার গ্রহণ করতে পারার ক্ষমতা রয়েছে হাঁসের।রাজহংসের বুদ্ধিমত্তা ও ভালটুকু শুষে নেওয়ার ক্ষমতাই মন জয় করেছিল বিদ্যার দেবীর।
আরও পড়ুন : সরস্বতী পুজোর দিন পড়তে বসলে সত্যিই কী রুষ্ট হন বিদ্যার দেবী ?
অন্যদিকে সাদা রং হল শুদ্ধতার প্রতীক।বিদ্যার দেবী তথা জ্ঞান হল শুদ্ধ। রাজহাঁসকে কলুষহীন চরিত্রের প্রতীক বলে মনে করা হয়। তাই বাহন হিসেবে রাজহাঁসকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।