Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

ব্রাহ্মণ বেশে পার্বতীর কাছে এসেছিলেন স্বয়ং মহাদেব : জানুন হর-পার্বতীর বিবাহের অভূতপূর্ব কাহিনী 

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবাদিদেব মহাদেব হলেন আদি, তিনিই অন্ত। জানা যায়, তিনি ও তাঁর স্ত্রী সতী তথা পার্বতীর প্রেম জন্ম-জন্মান্তরের। তাঁদের মিলনই এই মহাজগতে সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।  পুরাণে উল্লিখিত তাঁদের ঘটনায় নানা রসবোধের দৃষ্টান্ত মেলে। যারা প্রকৃত রসবোদ্ধা, তারা এ বিষয়গুলো মেনে নিয়েই হাজার হাজার বছর আগে রচিত এই পুরাণ থেকেই রসাহোরণ করেন।

কথিত আছে, হর অর্থাৎ দেবাদিদেবের সাথে সতীর বিচ্ছেদের পরে সতী পরের জন্মে পর্বতরাজ হিমালয়ের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। এ জন্মে তাঁর  পিতা গিরিরাজ হিমালয় এবং মাতা মেনকা। পর্বতের কন্যা বলেই তাঁর নাম হয়েছিল পার্বতী। এদিকে হিমালয় মহাতীর্থ। তাই ছোট থেকেই পার্বতী একটি দৈবিক আবহে বেড়ে উঠতে থাকেন। সকল দেবতার মহিমা-স্তব শুনে বেড়ে ওঠা পার্বতীর মনে মহাযোগী মহেশ্বর শিবের প্রতি আলাদা ভক্তিভাব জন্মে। তবে, বড় হওয়ার সাথে সাথে পার্বতীর এই শিবভক্তি পরিণত হয় শিবপ্রেমে। পার্বতী সারাদিন শিবের চিন্তায় মগ্ন থাকা শুরু করেন।

মহাদেবকে একবার দেখলেই পার্বতী সবকিছু ভুলে যেতে থাকেন। তাঁর চিন্তনে মননে সদাই শিব। গৃহে ফিরে পার্বতী বাবা-মায়ের কাছে তপস্বিনী হওয়ার অনুমতি চান। মেনকা তখন বলেন, “আমরা জানি রে মা, তুই শিবকে পতি হিসেবে পাওয়ার জন্যই তপস্যায় বসতে চাস। আমাদের তাতে আপত্তি নেই। তবে, তোর দেহ বড্ড কোমল আর তপস্যা বড় কঠোর। হিমালয় স্বয়ং মহাতীর্থ। তাই, বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। এই হিমালয়েরই কোনো নির্জন শৃঙ্গ বা খাদে গিয়ে সাধনা কর।”

পার্বতী তাঁর মা মেনকার কথা মেনে নিয়ে একটি নির্জন শৃঙ্গে গিয়ে শিবের সাধনা শুরু করেন। পার্বতীর তপস্যা দেখে দেবতারাও মুগ্ধ হন। হিংস্র জীব-জন্তুরা পার্বতীর কুটিরে এসে তাকে প্রণাম জানিয়ে চলে যায়। তিনি তাঁর কুটিরের আঙিনায় ফলদ গাছ রোপণ করেছিলেন। সে গাছগুলো বড় হয়ে ফল দেওয়াও শুরু করে। গাছের ফল দিয়ে তিনি অতিথি দেব-ঋষি-মানবদের সাদর আপ্যায়ন করতেন। পার্বতীর তপস্যাগুণে সে স্থান পরবর্তীকালে গৌরীতীর্থ নামে প্রসিদ্ধ হয়। এই ‘গৌরী’ হল পার্বতীর আরেক নাম। অত্যন্ত ফর্সা ও উজ্জ্বল গায়ের রং হওয়ার দরুন পার্বতীর অপর নাম ছিল গৌরী।

বছরের পর বছর কেটে যায়। পার্বতীর এত বছরের তপস্যার পরেও মহাদেবের দেখা নেই। তিনি ধ্যানেই মগ্ন। তবুও পার্বতী সাধনায় অটল থেকে একমনে শিবকে ডাকতে থাকেন। এমন সময় দেবতারা সবাই গিয়ে দেবাদিদেবকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “হে প্রভু, এবার আপনি পার্বতীকে দেখা দিন। সংসারের মঙ্গলের স্বার্থে আপনাদের মিলিত হওয়া যে একান্ত অনিবার্য।” দেবতাদের অনুরোধে চোখ খুললেন মহেশ্বর। পার্বতীকে বিয়ে করার ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেন। ভবিষ্যতে মদন ও রতির পুনর্মিলনের বিষয়েও বলে দেন তিনি। দেবতারা খুশিমনে স্ব স্ব লোকে ফিরে যান।

অতঃপর শিব এক ব্রাহ্মণের বেশে পার্বতীর কুটিরের প্রাঙ্গণে এসে দাঁড়ান। ব্রাহ্মণকে দেখে পার্বতী পরম সমাদরে তাকে আসন পেতে দেন, কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন, ফল পরিবেশন করেন। কথায় কথায় পার্বতীর তপস্যার কারণ জানতে পেরে চমকে ওঠেন ছদ্মদেশী ব্রাহ্মণদেব। তিনি বলেন, “এ কী বলছ তুমি! শিবের পত্নীত্ব বরণ করতে চাও। তোমার কি মতিভ্রম হয়েছে? তুমি সোনা ফেলে কাঁচের কদর করছ, চন্দন রেখে গায়ে কাদা মাখতে চাইছ, হাতিকে বাদ দিয়ে বলদকে নিজের বাহন বানাতে চাইছ, গঙ্গার জল রেখে কুয়োর জল পান করতে চাইছ। তোমার পক্ষে কি এসব মানায়, বলো? তুমি গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা। সকল দেবতা তোমার আত্মীয়। আর তুমি চাইছ ঐ শ্মশানবাসী শিবের সঙ্গ?”

পার্বতী তখন ব্রাহ্মণকে বলেন, “শিব সকল দেবতার দেবতা। এজন্যই তো তিনি দেবাদিদেব মহাদেব।”

এরপর ব্রাহ্মণ ইচ্ছাকৃত ভাবে শিবের নিন্দা শুরু করলেন। ব্রাহ্মণের মুখে শিবনিন্দা শুনে পার্বতী যতটা আশ্চর্য হলেন তার চেয়ে বেশি বীতশ্রদ্ধ হলেন। তিনি ব্রাহ্মণকে তৎক্ষণাৎ তাঁর কুটির ছেড়ে যেতে বলে নিজেও উঠে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে হাঁটা ধরলেন। এমন সময় পার্বতী শুনতে পেলেন গুরুগম্ভীর এক কণ্ঠস্বর, “আমাকে পেতেই এত তপস্যা আর, এখন আমাকেই তাড়িয়ে দিচ্ছ?” পার্বতী মুখ ঘুরিয়ে দেখেন, ব্রাহ্মণের জায়গায় স্বয়ং  শিব দণ্ডায়মান ও তাঁর গম্ভীর মুখে হাসির ঝলকানি। শিবের দর্শন পেয়ে লুটিয়ে পড়লেন পার্বতী। শিব তাঁকে তাঁর পত্নী হওয়ার বর দিলেন। অবশেষে পার্বতীর তপস্যা পূর্ণতা পেল। হৃদয়ভরা আনন্দ নিয়ে পার্বতী গৃহে ফিরে এলেন।

হিমালয় ও তাঁর পত্নী মেনকা একবাক্যে রাজি হয়ে গেলেন। নির্ধারিত হল বিয়ের লগ্ন। অপরদিকে কৈলাসে ফিরে মহাদেব দেবর্ষি নারদকে ডেকে পাঠালেন। নারদকে সকল লোকে শিবের বিবাহের খবর রটিয়ে দিয়ে সবাইকে নিমন্ত্রণ সেরে ফেললেন। নারদ তো মহাখুশি। মহাদেবের বিয়ে উপলক্ষে কৈলাসে সাজসাজ রব উঠল। শিবদূতেরা পাতা, খড়কুটোর অলংকার দিয়ে নিজেদের সাজাল। গণ-প্রেতের দল আরো বেশি করে ছাই মাখল গায়ে। শিবকেও সাজানো হলো। জটার চাঁদ তার মুকুট, কপালের তৃতীয় নয়ন তার তিলক, গলায় সাপ তার মালা, রুদ্রাক্ষ তার অলংকার। সর্পরাজ নানা মণিমুক্তো পড়ে আরও উৎকট রূপ ধারণ করল। সকল দেবতা, ঋষি, দানব, দৈত্য, সাধু-সন্ন্যাসী কৈলাসে এসে হাজির হলেন। সবাই শিবের বিয়ের বরযাত্রী হলো।

বরযাত্রীদের সবার আগে চলছিল গন্ধর্বগণ। তাদের রাজা বিশ্বাবসুকে দেখে মেনকা ভাবলেন, তিনিই শিব। বিশ্বাবসুর রূপ দেখে মেনকা মনে মনে স্বস্তি পেলেন যে, পার্বতীর তপস্যা ব্যর্থ হয়নি। নারদ মুচকি হেসে মেনকাকে বললেন, “বিশ্বাবসু গান গেয়ে দেবতাদের মনোরঞ্জন করে মাত্র। সে তো একজন গন্ধর্ব। সে শিব হতে যাবে কেন!” মেনকা ভাবলেন, দেবতাদের গায়কই এত সুন্দর, তাহলে দেবতারা নিশ্চয়ই আরো সুন্দর হবেন। আর শিব তো সকল দেবতার দেবতা। পার্বতীর মাতা অনেক সুদর্শন দেবতাকেই শিব ভেবে ভুল করলেন। একসময় এলেন বিষ্ণু। বিষ্ণুর রূপে সবাই মোহিত হলো। কিন্তু নারদ বললেন, “তিনি শ্রী নারায়ণ।”

এরপর যখন মহেশ্বর শিব নন্দীর উপর চড়ে তান্ত্রিক-যোগী-অঘোরীদের সাথে নিয়ে দ্বারপ্রান্তে এলেন, নারদ মেনকাকে বললেন, “এই যে আপনার মেয়ের জামাই শিব।” মেনকা দেখলেন গায়ে ছাই-ভস্ম মেখে হাতে ত্রিশূল নিয়ে গলায় সাপ পেঁচিয়ে তিন চোখওয়ালা পাঁচমুখো কে যেন একটি ষাঁড়ের উপর বসে রয়েছে, আর সবাই তাঁকে নমস্কার করছে। শিবের এ ভয়াল রূপ দেখে মেনকা পার্বতীকে তিরস্কার করে বললেন, “এ কাকে বিয়ে করতে চাইছিস তুই!” বলেই মূর্চ্ছিত হলেন। জ্ঞান ফিরলে মেনকা পার্বতী, নারদ, সপ্তঋষি- সবাইকে ভর্ৎসনা করলেন।

এরপর সবাই এসে মেনকাকে অনেক বোঝাল যে, “শিবই সবার উপরে। তিনি স্বয়ং তোমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছেন, এ তোমার পরম সৌভাগ্য। নিজের সৌভাগ্যের জন্য কেউ কাঁদে, এ আমরা প্রথম দেখছি।” স্বয়ং ব্রহ্মদেব এসেও মেনকাকে বোঝালেন। নারদ আসল ব্যাপারটি ধরতে পেরে মহাদেবের কাছে গিয়ে বললেন, “প্রভু, আপনার এ বিকট রূপ দেখে গিরিরাজের পত্নী অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। অন্তত শাশুড়িকে খুশি করার জন্য হলেও মোহনীয় রূপে আপনি আবির্ভূত হোন।”

নারদের কথায় দেবাদিদেব আমোদিত হলেন। শুধু শিব নয়, সকল দেবতা-ঋষি বড় আনন্দ পেলেন। শিব রুদ্র রূপ ছেড়ে সুন্দর-কোমল রূপ ধারণ করলেন। এবার মেনকা খেয়াল করে দেখলেন যে, সকলের মধ্যে শিবই সবচেয়ে সুন্দর। তিনি উঠে গিয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন। মেনকার এ কাণ্ডে হাসির রোল পড়ে গেল। শুভলগ্নে শিব-পার্বতীর বিয়ে হয়ে গেল। বিষ্ণু পার্বতীর ভাই হয়ে তাঁকে দেবাদিদেব মহাদেবের হাতে তুলে দিলেন। ব্রহ্মা নিজে বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতার তদারকি করলেন ও পৌরোহিত্য করলেন। বিয়ের সাক্ষী ছিলেন অগ্নিদেব। ধীরে ধীরে শিব-পার্বতী নতুন সংসার শুরু করলেন ও এভাবেই মহেশ্বর শিবের যোগী জীবনের অবসান ঘটল।

 

কৈলাস পর্বত তুলতে গিয়ে কী দশা হয়েছিল রাবণের ? জেনে নিন অজানা কাহিনি

কেন কেতকীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন দেবাদিদেব মহেশ্বর?

কী ভাবে সৃষ্টি হয়েছিল মহাদেবের প্রধান অস্ত্র ত্রিশূলের?  

প্রত্যেক দেব দেবীর রয়েছে পৃথক দিক, জেনে নিন আপনিও

শিবলিঙ্গে নিবেদিত প্রসাদ নিয়মিত খাচ্ছেন, কী হতে পারে জানেন?

প্রলয়ের বার্তা শুনে পিনাক নিক্ষেপ করেছিলেন দেবাদিদেব, জেনে নিন মারণাস্ত্রের পৌরাণিক কাহিনি 

সূর্যদেবের কন্যার বিয়ে হয়েছিল বজরংবলীর সাথে – জানুন অজানা কাহিনী 

জানেন কী এই মন্দিরের গর্ভগৃহে একই সঙ্গে বিরাজমান মা কালী ও শিব

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00