নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সময় যত গড়াচ্ছে ততই মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সঙ্গে ইসলামি জিহাদিদের গভীর সখ্যতার প্রকাশ্যে আসছে। ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা মাহফুজ আলম। প্রেস সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক শফিকুল আলম। আর এবার ঢাকা মহানগর পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে হিযবুত তাহরীর শতাধিক জঙ্গিকে। তার মধ্যে নাশকতামূলক কাজকর্মের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ৫ কুখ্যাত জঙ্গিও রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই পাঁচ কুখ্যাত জঙ্গি হলেন, আসম আলী লাল্টু, আবু নাঈম মিস্টার, লাল মিয়া, শফিউল আলম সাদ্দাম এবং আলী হোসেন। এদের সবার বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের মসরত মদাতি গ্রামে। গত ১৭ অক্টোবর এই পাঁচ কুখ্যাত জঙ্গিকে ঢাকা পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। ৫ জনকেই রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাকে আপাতত পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঢাকা পুলিশের পদস্থ কর্তারাও বিস্মিত হয়েছেন। যদিও চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না তাঁরা।
রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের এক অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পরেই হিযবুত তাহরী, হুজি-বি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-সহ শেখ হাসিনা সরকারের জমানায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের গ্রেফারকৃত সদস্যদের কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর সহ বিভিন্ন কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমের নির্দেশে হিযবুত তাহরী জঙ্গিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, জেল থেকে ছাড়া পাওয়া শতাধিক জঙ্গিকে কনস্টেবল পদে নিয়োগও করা হয়েছে। আর ওই নিয়োগ করেছেন খোদ ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মাইনুল হাসান। যে সমস্ত জঙ্গিরা পুলিশে চাকরি পেয়েছেন তাদের কোনও থানায় পোস্টিং দেওয়া হয়নি। ইসলামী ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতা সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহের নিরাপত্তা দেখভালের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে বহুবার যোগাযোগ করা হলেও ঢাকার পুলিশ কমিশনার তথা ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন নেতা মাইনুল হাসান কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।