নিজস্ব প্রতিনিধি: দুয়ারে মা দুর্গা। অথচ দুর্গা যেখানে আসছেন সেখানেই শিশুকন্যা খুনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আর সেই ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এলাকার পরিবেশ। নজরে রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা(South 24 Pargana) জেলার জয়নগর থানা(Joynagar PS) এলাকা। শুক্রবার রাতে জয়নগর থানা এলাকার মহিষমারিহাট এলাকায় বছর ৯’র এক শিশুকন্যার দেহ(Baby Girl Death) উদ্ধারের ঘটনা ঘটে তারই বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে। অভিযোগ উঠেছে, কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধর্ষণ করে খুন(Allegation of Rape and Murder) করা হয়েছে। ঘটনার জেরে পুলিশ এলাকারই এক যুবককে আটকও করেছে। কিন্তু তাতে আমজনতার ক্ষোভ কমেনি। রাতভর জয়নগর থানা ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানোর পরে এদিন অর্থাৎ শনিবার সকাল থেকেই তাঁরা লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। শুরু হয়ে গিয়েছে অবরোধ(Road Blocked by People)।
আরও পড়ুন, ১৫০ কোটি টাকায় বারাসত মহকুমার জন্য হচ্ছে ৫টি নতুন বিদ্যুতের সাবস্টেশন
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুটি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার পরিবার জানিয়েছে, প্রতি দিনের মতো শুক্রবারও সে টিউশন পড়তে গিয়েছিল। কাছেই বাজারে ছিল তার বাবার দোকান। টিউশন শেষে দোকানে বাবার সঙ্গে দেখাও করেছিল শিশুটি। তার পর একাই বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু বাড়ি অবধি সে আর এসে পৌঁছায়নি। শিশুর বাবা জানিয়েছেন, ‘আমার সঙ্গেই দুপুরে মেয়ে পড়তে গিয়েছিল। ৫টার সময় ছুটি হয়েছিল। বাজারে আমার দোকানে এসে বলেও গেল, বাবা আমি বাড়ি যাচ্ছি। ও রোজ একাই বাড়ি ফিরত। কিন্তু আমার মেয়ে আর বাড়িতে ফেরেনি। বাড়ি থেকে খবর পেয়ে আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কোথাও পাইনি। পরে পুলিশ আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে পুকুরের মধ্যে আমার মেয়ের দেহ খুঁজে পেয়েছে। ওইটুকু বাচ্চাকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। যে করেছে, তাকে আমরা চিনি। পাশের পাড়ায় থাকে সে। দোষীর যেন ফাঁসি হয়, আমরা সেটাই চাই।’
আরও পড়ুন, আগামিকাল থেকেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের টানা ১৬ দিন ছুটি
ঘটনার জেরে পুলিশ এলাকার এক যুবককে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করছে পুলিশ। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে রাতেই জয়নগর থানায় বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা। থানায় ঢুকে ভাঙচুরও চালানো হয়। ক্ষুব্ধ জনতার দাবি, মেয়েটিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। গতকাল রাতেই মৃতের পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় জয়নগর থানায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এলাকার এক যুবককে আটক করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ওই যুবক সাইকেলে করে শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদিন শিশুর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তারপরেই পরিষ্কার হবে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটেছে কিনা।