নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরে দেশ জুড়ে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের উপরে কী ভয়াবহ নির্যাতন চলছে তার তথ্য প্রকাশ্যে এল। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তরফে সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, গত ৫ অগস্ট দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে এখনও পর্যন্ত মৌলবাদীদের হাতে গণধর্ষিতা হয়েছেন চার হিন্দু নারী। তার মধ্যে একজন বধির। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-জামায়াত ইসলামীর সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন ৯ জন। ৬৯টি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ মঠে হামলা চলেছে।
সেনা বিদ্রোহের মুখে গত ৫ অগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তার পরেই দেশ জুড়ে নারকীয়ভাবে শুরু হয় হিন্দু নির্যাতন যজ্ঞ। একদিকে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে হিন্দুদের খেদাও অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিরা শুরু করেছে হিন্দুদের উপরে হামলা। খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম-সহ একাধিক জেলায় হিন্দুদের জমিঘর জোর করে দখল করার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো ও আগুন লাগানো হয়েছে। রাতে হিন্দুদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে প্রাণে বাঁচতে চাইলে দেশ ছাড়ার নিদান দিচ্ছে জামায়াত-বিএনপি সহ কট্টর মৌলবাদী দলগুলি।
এদিন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তরফে সভাপতি নির্মল রোজারিও সাংবাদিক সম্মেলনে দেশজুড়ে চলা সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে ২ হাজার ১০টি সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। গণধর্ষিতার শিকার হয়েছেন ৪ জন। ৬৯টি ধর্মস্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ৯১৫টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ৯৫৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। ১,৭০৫টি পরিবারের উপরে হামলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হামলা চলেছে খুলনা বিভাগে। সেখানে মোট ৮১০টি হামলা ঘটেছে। চার জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে একজন বধিরও রয়েছে।