নিজস্ব প্রতিনিধি, খুলনা: ‘রাজাকার’ তথা পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের ইন্ধনে হিন্দুদের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনামাফিক চলছে হিন্দু নিধন যজ্ঞ। আর সেই যজ্ঞের সর্বশেষ বলি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু পড়ুয়া অর্ণব সরকার। গতকাল শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে খুলনার তেঁতুলতলা মোড়ের কাছে ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত সোয়া নয়টা নাগাদ তেঁতুলতলা মোড়ের কাছে মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রেখে চা খাচ্ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র প্রথম বর্ষের পড়ুয়া অর্ণব সরকার (২৬)। আচমকাই ১০-১২টি মোটরবাইক চেপে ঘটনাস্থলে হাজির হয় দুষ্কৃতীর দল। অর্ণবকে ঘিরে ধরে প্রথমে ‘আল্লাহু আকবর’ শ্লোগান দেয়। তার পর এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি অর্ণবের মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এমবিএ’র প্রথম বর্ষের ছাত্র। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে ধরে নৃশংসভাবে কোপানো হয়। সারা শরীর রক্তে ভেসে যায়। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময়ে জামায়াত ইসলামী জিন্দাবাদ শ্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি হিন্দুদের কচুকাটা করে খুন করা হবে বলেও হুঙ্কার ছাড়ে খুনির দল। দুষ্কৃতীরা চলে যাওয়ার পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় অর্ণবকে উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা অর্ণবকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
প্রকাশ্যে এক হিন্দু পড়ুয়ারা গুলি করে ও নৃশংসভাব কুপিয়ে খুন করার পরেও নি্র্লিপ্ত পুলিশ। সোনাডাঙা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘একজন হিন্দু পড়ুয়াকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে শুনছি। শরীরের কোথায় গুলি লেগেছে বা কোপানো হয়েছে –তা বলতে পারব না। কারা বা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে তাও প্রাথমিকভাবে বলা সম্ভব নয়। সময় হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজখবর নেব।’ খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (মিডিয়া) আহসান হাবীবও খানিকটা উদাসীন কণ্ঠে বলেন, ‘একজন হিন্দু পড়ুয়া খুন হয়েছে বলে জেনেছি। কী কারণে খুন হলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অর্ণবের খুনিরা সবাই জামায়াত ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের পরিচিত নেতা ও ক্যাডার। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই খুলনা শহরজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। মূলত হিন্দুদের নিশানা করছে। সব কিছু জেনে শুনেও নির্বিকার পুলিশ।