নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। গত ১১ মাসে দেশে সংখ্যালঘুদের উপরে ২৪৪২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণ, তেমনই রয়েছে খুন, মন্দির ভাঙচুর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান লুটের ঘটনা। কোনও হামলাতেই মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাক দর্শক হয়ে দেখেছে। ফলে মুসলিম মৌলবাদী ও জামায়াত ইসলামী এবং বিএনপির সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ক্ষেত্রে উৎসাহিত হয়ে পড়ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইউনূস জমানায় সংখ্যালঘুদের উপরে কিভাবে নির্যাতন চলছে তার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের তরফে সভাপতি নির্মল রোজারিও সংখ্যালঘু নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ‘গত বছরের ৪ অগস্ট থেকে ২০ অগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের উপরে ২ হাজার ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গত বছরের ২১ অগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩২টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আর চলতি বছরের শুরু থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন করে আরও ২৫৮টি হামলা হয়েছে। হামলার হাত থেকে মহিলা ও শিশুরাও বাদ যায়নি। খুন, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ, ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার, জোরপূর্বক বাড়ি ও ব্যবসা দখল, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার মতো নির্যাতন চলছে।’ সংগঠনের নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘হিন্দু তথা সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি উল্টে তদারকি সরকার সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাকে আড়াল করতে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি না করায় দুর্বৃত্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বদলের বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যে বৈষম্যের শিকার তা তুলে ধরা ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, ‘ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আশা করেছিল যে, সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন চলছে তা বন্ধে সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু আমরা দেখছি সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম শেষ হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জন্য এটা সবচেয়ে হতাশার জায়গা।’