পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ওঁ কুরুক্ষেত্র গয়া গঙ্গা প্রভাসপুষ্করিণী চ
তীর্থান্যেতানি পুণ্যানি তর্পণকালে ভবন্ত্বিহ ।।
কথিত আছে, মহালয়ার এই বিশেষ দিনে পিতৃপুরুষদের বিদেহী আত্মারা তাঁদের উত্তরসূরিদের কাছে জল পাওয়ার উদ্দেশ্যে মর্ত্যে আগমন করে থাকেন। বলা হয়ে থাকে, পিতৃলোককে স্মরণের অনুষ্ঠানই মহালয়া আর, এই পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে জলদান করার প্রথাটিকেই তর্পন বলে। জানা যায়, তর্পণ কথাটি এসেছে ‘তৃপ’ থেকে, যার অর্থ হল সন্তুষ্ট করা।
এই তর্পনের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের আত্মারা জল পেয়ে শান্তি লাভ করে থাকেন। যেহেতু আত্মাই ব্রহ্ম, তাই আত্মার শান্তি অর্থে ব্রহ্মেরও শান্তি। তবে, অনেকেই কোনো না কোনো কারণবশত তর্পণ করতে গঙ্গায় যেতে পারেননা। তবে কি তারা ঘরে থেকেও তর্পণ করতে পারবেন ?
জানা যায়, পিতৃপক্ষে পিতৃপুরুষদের জন্য তর্পণ ও পিন্ডদানের বেশ কিছু জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ও ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। তাই বাড়িতে থেকেও অবিলম্বে পূর্বপুরুষের পিণ্ডদান ও তর্পণ করা যায়।
বাড়িতে তর্পণ করবেন কি ভাবে ?
শাস্ত্র মতে বাড়িতে বসেও পূর্বপুরুষদের পুজো করে আচার পালন করা যায়, এতেও তাঁরা সন্তুষ্ট হন।
যদি বাড়িতেই তর্পণ করতে হয়, তাহলে সূর্যোদয়ের পূর্বে ঘুম থেকে ওঠা আবশ্যক। ভোর বেলায় স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে দক্ষিণ দিকে মুখ করে বসতে হবে। একটি চওড়া তামার পাত্রে বার্লি, তিল, চাল, কাঁচা দুধ (গরুর), গঙ্গা জল, সাদা ফুল এবং জল একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। হাতে কুশ ঘাস রেখে ওই জল পূরণ করতে হবে। এরপর পূর্বপুরুষদের জল নিবেদন করতে হবে। এইভাবে ১১ বার করে আপনাকে পূর্বপুরুষদের ধ্যান করতে হবে। এরপর পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করতে হবে।
পূর্বপুরুষদের খাদ্য প্রদান করার একটি আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। যিনি তর্পণ করছেন, তিনি তর্পণের আগের দিন থেকে শুধুমাত্র সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করবেন। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে মিষ্টান্ন নিবেদন করতে চাইলে আগুনে মিষ্টান্ন নিবেদন করতে হবে। এরপর পঞ্চবলি অর্থাৎ দেবতা, গরু, কুকুর, কাক ও পিঁপড়ের জন্য আলাদা খাবার বের করে রাখতে হবে। শেষে ব্রাহ্মণদের ভোজন করিয়ে বা ভক্তি ভরে দক্ষিণা ও অন্যান্য জিনিস দান করুন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী আচারানুসারে কোনও স্থানে পিণ্ডদান করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়, কিন্তু এভাবে বাড়িতে তর্পণ করলেও সুফল পাওয়া যায়।