নিজস্ব প্রতিনিধি: মহালয়া(Mahalaya), পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা। এবারে আবার গান্ধিজয়ন্তী অর্থাৎ ২ অক্টোবরই পড়েছে মহালয়া। আর সেই দিন থেকেই কার্যত কলকাতার বুকে দুর্গোৎসবের(Durga Puja) সূচনা হয়ে যাচ্ছে। বছরের বাকি সময়ে একাধিক ধর্মীয় উৎসব-পার্বন থাকলেও এই সময়টাই বাঙালির মহোৎসব, যার জন্য সারা বছর ধরে সবাই অপেক্ষা করে থাকেন। এই সময়টাতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য দলের নেতা, কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এবার মহালয়ার দিনে তিনি নতুন করে বার্তা দিতে চলেছেন দলের(TMC) নেতা, কর্মী থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে যে উৎসবের সময়ে তাঁরা কে কি করবেন, তা নিয়ে। মহালয়ার দিনেই তৃণমূলের দলীয় মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র উৎসব সংখ্যা প্রকাশিত হতে চলেছে। সেদিন কলকাতার নজরুল মঞ্চে সেই পত্রিকার উদ্বোধন করবেন মমতা। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি সেদিন দলের জনপ্রতিনিধি ও দলীয় কর্মীদের বার্তা দেবেন বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন, ‘সরকার সব সময়ে মানুষের পাশে আছে’, উত্তরকন্যা থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
আর জি করের ঘটনাকে(R G Kar Incident) সামনে রেখে দোষীর ফাঁসির দাবিতে গত ১৬ অগস্ট কলকাতার রাজপথে পদযাত্রা করেছিলেন মমতা। পদযাত্রা শেষে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে একটি সভাও করেন তিনি। এরপর ২৮ অগস্ট দলের ছাত্র শাখার কর্মসূচিতেও ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে সুর চড়ান তিনি। এরপর থেকে ঘটনা প্রবাহ যেভাবে এগিয়েছে, তা নিয়ে রাজনীতির কারবারিদের মধ্যে অনেক চর্চা-আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে ধর্ষণ বিরোধী ‘অপরাজিতা বিল’ বিধানসভায় অনুমোদন করিয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ করেছে তাঁর সরকার। তবে বিরোধীরা রাত দখল, ধর্না, অবস্থান কর্মসূচির নামে আর জি করের ঘটনাকে ইস্যু করে রাজনীতি করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শাসক দলের। এতদিন তৃণমূল বড় মাত্রায় কোনও কর্মসূচি নেয়নি। বিরোধীদের অভিযোগের তথ্য দিয়ে জবাব দিয়েছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে মহালয়ার দিন মমতা বড় বার্তা দেবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির সদস্য হওয়ার আগ্রহ কমছে বাংলায়
মমতা বরাবর বলে থাকেন, দেশের নেতা যিনি হবেন, তিনি মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো হবেন। যে বা যারা বিভেদ তৈরি করেন, তারা কখনও দেশের নেতা হতে পারেন না। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২ অক্টোবর গান্ধিবাদী পথে হেঁটে মমতা যেমন বিজেপিকে নিশানা করবেন, অন্যদিকে দেবীপক্ষের সূচনায় দেবেন সামাজিক বার্তাও। উৎসব-পার্বন মিটে গেলে তৃণমূল লাগাতার কর্মসূচিতে নামছে। বিজয় সম্মিলনী থেকেই যাবতীয় কর্মসূচি শুরু হয়ে যাবে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ড, অঞ্চলে বিজয় সম্মিলনী করে প্রবীণ মানুষদের সংবর্ধনা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ তৈরির কাজও শুরু করে দেবে তৃণমূল। ফলে সবদিক থেকে ২ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে চলেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে। তবে আর জি কর কাণ্ডে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সেভাবে দলের পক্ষে সরব হতে দেখা যায়নি বলে দলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে বেশ ক্ষোভ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মহালয়ায় মমতা দলের জনপ্রতিনিধিদের আলাদা করে কোনও বার্তা দেন কিনা সেইদিকেও সকলে তাকিয়ে থাকবেন।