নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: কাঠগোড়ায় ফের সিভিক ভলেন্টিয়ার। ফুলচুরির অপবাদে এক প্রৌঢ়াকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ সিভিক ভলেন্টিয়ার ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। প্রৌঢ়ার কর্মস্থলে গিয়ে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে। অপমানে ওই প্রৌঢ়া আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকায়।
জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের নৃসিংহপুর এলাকার বাসিন্দা প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ফুল তুলছিলেন সরস্বতী দে। মিলন করাতি পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার বলে জানা গিয়েছে। সরস্বতী দে একজন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী। ফুল তোলার অপবাদ দিয়ে সরস্বতীকে বাজে কথা বলে অভিযুক্ত সিভিকের পরিবারের লোকজন। ওই প্রৌঢ়াকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। বাড়ি ফিরে কাজে যান সরস্বতীদেবী। সেখানে গিয়েও সিভিকের পরিবারের লোকজন তাঁকে অসম্মান করেন বলে অভিযোগ। তারপরেই শনিবার সকালে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
মৃতা সরস্বতী দে-র পরিবারের দাবি, অপমানে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। বাড়ির পাশে গোয়ালঘরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। শনিবার সকালে পরিবারের লোকজনই তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাই পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতার পরিবারের তরফে ওই সিভিক ভলান্টিয়া মিলন সহ তাঁর পরিবারের চার জনের নামে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, সামান্য ফুল তোলার জন্য চুরির অপবাদ দিয়ে প্রৌঢ়াকে চরম অপমান করেছে ওই পরিবার। সেই অপমান সহ্য করতে পারেননি। ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারের পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রানাঘাট পুলিশ জানিয়েছে, অপমান জনক কথা বলে হেনস্থা করার অভিযোগ মিলেছে। দেহ ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।