নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দিনে দিনে স্থানীয় বাজারে বাড়ছে আলুর দাম(Potato Price hike)। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আলু ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে আলু কিনতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে মধ্যবিত্তের। এই পরিস্থিতিতে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে আলু বিক্রির উপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের পরে, রাজ্যের বাইরে আলু পরিবহন ঠেকাতে পুলিশ অন্তঃরাজ্য সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি ট্রাক সীমান্ত ক্রসিংয়ে আটকে পড়েছে। অন্যান্য রাজ্যে আলু বিক্রির অপর থেকে রাজ্য সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিলে আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে ধর্মঘটে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন আলু ব্যবসায়ীরা। আর সেই ধর্মঘট রুখতে এবার কড়া হাতে হাল ধরল প্রশাসন।
আলু ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট রুখতে সমস্ত কিছু পদক্ষেপ নিতে মরিয়া রাজ্য, তা আরও একবার হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। সোমবার আলু ব্যবসায়ীদের অনুরোধেই তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাজ্যের মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বাইরে আলু পাঠানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আলু রপ্তানিতে মুখ্যমন্ত্রী রাশ না টানলে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় মত সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যের হিমঘরগুলিতে প্রায় ৭ লক্ষ মেট্রিক টন আলু মজুত আছে। রাজ্যে ডিসেম্বর মাসে আলু খরচ হবে সাড়ে তিন থেকে চার লক্ষ মেট্রিক টন। বাড়তি তিন লক্ষ মেট্রিক টন ভিন রাজ্যে না গেলে ক্ষতি হবে ব্যবসায়ীদের।
প্রসঙ্গত, শনিবার ৫১০ ব্যাগ আলু ধরা পড়েছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায়। বারাবনির গৌরান্ডি ব্রিজ দিয়ে আলু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি থানার পুলিশ তা ধরে ফেলে। পুলিশের নজর এড়াতে আলুর বস্তা ছিল প্লাস্টিকে ঢাকা। চালানে লেখা ছিল প্লাস্টিক ব্যাগ। ভিতরে মেলে ৫১০ ব্যাগ আলু। চালক ও খালাসিকে গ্রেফতার করা হয়। ওই আলু হুগলির পাণ্ডুয়া থেকে বিহারের গয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।