নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি : কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি। হাইকোর্ট বলা সত্ত্বেও ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। ১ অগস্ট থেকে কাজ শুরুর কথা বলা হলেও, সেই কাজ শুরু হয়নি। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি সপ্তাহেই এই মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিগত ৩ বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে সরব হয়েচে তৃণমূল। বার বার বঞ্চনার অভিযোগও তোলা হয়েছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদও জানিয়েছেন তৃণমূলের সাংসদরা। কিন্তু তারপরেও মেলেনি বকেয়া টাকা। গত ১৮ জুন কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ১ অগস্ট থেকে ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে। কিন্তু ২ মাস কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কিছু জানানয়নি। ফলে অগস্টের শুরু থেকে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তা সম্ভাব হয়নি। রাজ্য মনে করছে, হাইকোর্টের নির্দেশ সরাসরি অমান্য করল কেন্দ্র। এই ঘটনায় রীতিমত হতাশ গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ।
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০২২ সাল থেকে বাংলার ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বকেয়া টাকা নিয়ে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া প্রায় ৪৪ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, বরাদ্দ টাকার খরচের হিসেবে দেখার ক্ষমতা কেন্দ্রের রয়েছে। কেন্দ্র সেটা করুক। কিন্তু প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু তারপরেও এই প্রকল্প নিয়ে উচ্চবাচ্য করল না কেন্দ্র। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। তাই সিবিআই তদন্তের চান শুভেন্দু। এবার হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সু্প্রিমো কোর্টে গিয়েছে কেন্দ্র।