নিজস্ব প্রতিনিধি, মধ্যমগ্রাম: মধ্যমগ্রাম বিস্ফোরণ কান্ডে এবার উঠে এসেছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা। এই ঘটনায় এসটিএফের হাতে আটক মৃত সচ্চিদানন্দের প্রেমিকা ও তার স্বামী।
পুলিশ সূত্রে খবর মধ্যমগ্রামের এক গৃহবধুর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সচ্চিদানন্দের। সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে। পরে প্রেমিকার স্বামীর সম্পর্কে জানতে পেরে মধ্যমগ্রামে আসে সে। জানা গিয়েছে, তিন মাস আগেও মধ্যমগ্রামে এসেছিলেন সচ্চিদানন্দ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমিকার স্বামীকে হত্যা করতেই ডিভাইস নিয়ে এসেছিল সচ্চিদানন্দ। তবে প্রেমিকার স্বামীকে হত্যা করতে সে কোনও বিস্ফোরক বানাচ্ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, আইটিআই পাস সচ্চিদানন্দ ডিভাইস বানানোর কাজে অত্যন্ত দক্ষ। ইতিমধ্যেই সচ্চিদান্দের প্রেমিকা ও তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রেমিকার সম্পর্কের বিষয়টি তার স্বামী জেনে যাওয়ার পর অশান্তি হয়েছিল। প্রেমিকার অপমান মেনে নিতে না পেরে মধ্য়মগ্রামে চলে আসে সে। ভুল করে নিজেই পেনের মতো একটি বৈদ্যুতিন যন্ত্রের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। যন্ত্রের ভুল বোতামে চাপ পড়তেই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের অনুমান, মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে গেলেই সচ্চিদানন্দ মধ্যমগ্রামে এসে থাকতেন। গত তিন দিন ধরে মধ্যমগ্রামেই থাকছিলেন তিনি।
রবিবার গভীর রাতে মধ্যমগ্রাম হাইস্কুলের গেটের সামনে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন মধ্যমগ্রাম হাইস্কুলের গেটের সামনে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। জানা যায়, ওই ব্যক্তির হাতে থাকা ব্যাগ ভর্তি বোমা থেকেই বিস্ফোরণ হয়। তাতেই গুরুতর আহত হয়েছেন ওই ব্যক্তি। বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশও পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।