নিজস্ব প্রতিনিধি: নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে যথোপযুক্ত। এই গানে প্রবীণদের অসহায়তার যে চিত্র ফুটে ওঠে, বর্তমান সমাজে সেই ছবি প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। বাবা-মায়ের বয়স হওয়ার কারণে তাদের ঘরছাড়া করছে সন্তান। কখনও বৃদ্ধাশ্রম, কখনও স্টেশন, কখনও বা ফুটপাত হয়ে উঠছে এই অসহায় প্রবীণ মানুষের আশ্রয়স্থল। মাঝেমধ্যেই এই ধরনের অমানবিক ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনই ছবি দেখতে পাওয়া গিয়েছে আরামবাগে। গুণধর ছেলে মারধর করে বছর ৮০-র চাঁপা প্রামানিককে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে বের করে দিয়েছে। তারপরে থেকে খোঁজও রাখেনি সে।
জানা গেছে, আরামবাগের বছর ৮০-র ওই বৃদ্ধার ছেলে বিডিও অফিসে মায়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে এসেছে। সেই মা স্থানীয় একটি হাসপাতালে দরজায় বসে রয়েছেন। হাসপাতালে কাছেই জঙ্গল। সেখানে আবার শিয়ালের উপদ্রব। তার মধ্যেই দিন গুজরান করছেন অশীতিপর বৃদ্ধা। রাতেও সেখানেই কাটান বলে জানা গিয়েছে। নির্মম ও অমানবিকতার চূড়ান্ত ঘটনার চিত্র এটি। ছেলে একবারও খোঁজ নেয় না। স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার তাকে খেতে দেন মাঝে মধ্যে। পাশাপাশি ফুরফুরা ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালের এক রাধুনী ভাত খেতে দেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সেই ভাত দেওয়া যাবেনা বলে জানানো হয়েছে। পরে এক স্থানীয় মহিলা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অসহায় ওই বৃদ্ধা যাতে সরকারি সাহায্য পান তারই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সূত্রের খবর, স্বামী বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন। তারপর থেকেই বৃদ্ধার অবস্থার অবনতি হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি থেকে শুরু করে ভিডিও অফিস স্থানীয় শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ। ওই বৃদ্ধা জানিয়েছেন, ছেলে বউমা মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। বাড়ির দলিলও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একবার বার্ধক্য় ভাতা পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটাও পরে আর পাননি। বিডিও অফিস থেকে দেওয়া হবে জানানো হলেও পাননি।