নিজস্ব প্রতিনিধি, হাবরা : ধার দেনা করে হলেও এখন অনেকেই সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে সিজার করাতেই পছন্দ করেন। সিজার করালে প্রসব যন্ত্রণা থেকে কিছুটা রেহাই মেলে। কিন্তু সারাজীবনের জন্য অনেকটাই দুর্বল হয়ে যান মা ও সন্তান। সিজার হওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের পরবর্তী সময়ে একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই গ্রামীন হাসপাতালের পরিবর্তে একটু বেশি খরচে বেসরকারি নার্সিং হোমে যাচ্ছেন। এবার গ্রামীন হাসপাতালে সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার বার্তা দিতে নিজের স্ত্রীয়ের প্রসব করালেন স্বাস্থ্য আধিকারিক মিটন বিশ্বাস।
একটা সময় ছিল, সাধারণ নিয়মে সন্তান প্রসব করান হত সাধারণ চিকিৎসা কেন্দ্রে অথবা বাড়িতে। সেখানেও সুস্থ থাকত সদ্যোজাত সন্তান ও তার মা। ধীরে ধীরে গ্রামীণ হাসপাতালে সন্তান প্রসবের নির্ভরতা কমে গিয়েছে। অনেকে পয়সা খরচ করে ছুটছেন দূরের কোন বড় হাসপাতালে অথবা ধার দেনা করে হলেও বেসরকারি নার্সিংহোমের উপরেও অনেকে নির্ভর করছেন। কিন্তু গ্রামীন হাসপাতালেও সন্তান সুস্থভাবে জন্ম নিতে পারে। সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাবরা এক নম্বর ব্লকের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক মিটন বিশ্বাস।
অন্যান্য গর্ভবতী মায়েদের গ্রামীণ হাসপাতালে সুস্থ সন্তান প্রসব করানোর বার্তা দিতেই নিজের স্ত্রীয়ের নর্মাল ডেলিভারি করিয়েছেন মছলন্দপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। এই ঘটনা সারা ফেলে দিয়েছে গোটা এলাকায়। সরকারি চাকুরেজীবী হলেও নিজের স্ত্রীয়ের ডেলিভারির জন্য বেছে নেননি কোনও বিলাসবহুল নার্সিংহোম। নিজের গ্রামীন হাসপাতালেই স্ত্রীর সন্তান প্রসব করালেন। মা ও সন্তান দুজন সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন,গর্ভবতী মায়েরা গ্রামীণ হাসপাতালে এসে যেন সাধারণ ডেলিভারি করান। এই হাসপাতালেও সুস্থভাবে শিশুর জন্ম হতে পারে। গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই সমস্যা ছাড়াই সন্তান প্রসব সম্ভব। তারজন্য অতিরিক্ত টাকা বা অতিরিক্ত দূরে যেতে হবে না মায়েদের।