নিজস্ব প্রতিনিধি : টানা বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর সিকিম। ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে তিস্তা। একাধিক এলাকায় ধস নামার জেরে উত্তর সিকিমে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। চরম সমস্যা পড়েছেন বহু পর্যটক। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। সিকিমে আটকে পড়ে পর্যটকদের গ্যাংটকে নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়েছে। লাচুংয়ে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। তাঁদের ধীরে ধীরে নামিয়ে আনা হচ্ছে। গত ২দিনের দুর্যোগে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। মৃত্যু আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা।
উত্তর সিকিমের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর সিকিম। লাচুং থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও লাচেনে এখনও বহু পর্যটক আটকে রয়েছেন। তাঁদের নামিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রবল বৃষ্টির কারণে সংযোগকারী রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো প্রাথমিকভাবে সারাই নাকরে পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টুং চেকপোস্ট, লেগশিপ, কিউজিং সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ধসের জেরে বিপর্যস্ত হয়েছে। নামচি জেলার কিছু অংশেও ধসের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ফিদাং গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
তিস্তার আশেপাশের ডিকচু ও সিংথামের স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে জারি হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর। তিস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাত এগারোটা নাগাদ তিস্তা বাজার পুলিশ প্রশাসনের তরফে মাইকিং করা হচ্ছে। সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রীতিমত সাইরেন বাজিয়ে চলছে তিস্তা বাজার এলাকায় মাইকিং। তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিস্তার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। উত্তর সিকিমে বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা ও উদ্ধারকাজ তালানো হলেও বৃষ্টিই প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নির্দেশিকা মেনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে অসম এবং অরুণাচল প্রদেশেও। জনজীবন বিপর্যস্ত ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায়। জানা গিয়েছে, অসম, অরুণাচল, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী এবং মণিপুরের রাজ্যপালকে পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ফোন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।