নিজস্ব প্রতিনিধি, খানাকুল : বাংলাকে না জানিয়ে ফের জল ছাড়ল ডিভিসি। আর এতেই বিপদে পড়েছে রাজ্যের একাধিক জেলা। টানা বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে নদী। নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তির্ণ অঞ্চল। বাংলা থেকে নিম্নচাপ সরলেও পাঞ্চাব, ছত্তিশগড়, অসমের ওপরে রয়েছে ঘূর্ণাবর্ত। পাশাপাশি বাংলায় নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় ডিভিসির ওপরে জলের প্রেশার বাড়তে শুরু করেছে। বাঁধের চাপ কমাতে জল ছেড়েছে ডিভিসি। এরজেরেই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে হুগলির খানাকুলে। আরামবাগ-গড়েঘাট রাজ্যসড়কের ওপর দিয়ে জল বইতে শুরু করেছে। চলছে ঝুঁকির যানচলাচল।
সূত্রের খবর, খানাকুলের মাড়োখানা, জগৎপুর এলাকায় চাষের জমিতেও ঢুকে পড়েছে জল। কোমর সমান জল পেরিয়ে মানুষজন যাতায়াত করছে। জল পেরিয়েই বাজার, দোকান করতে হচ্ছে মানুষকে। বেশকিছু এলাকার মানুষ নৌকাই ভরসা। এরপর ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, পাঞ্চেত ও মাইথন থেকে জল ছাড়ার কারণে জলস্তর বেড়ে ফুঁসছে বাংলার নদীগুলো। বাংলার পশ্চিমের জেলগুলোতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শিলাবতী, কংসাবতী, দারকেশ্বর, রূপনারায়ন নদীতে জস ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। জানা গিয়েছে, মাইথন, পাঞ্চেত ব্যারাজ থেকে ছাড়া জল রাত সাড়ে দশটার মধ্যে এসে পৌঁছাবে দুর্গাপুরে। তারপরেই দুর্গাপুর ব্যারাজেও বাড়বে চাপ। এই ব্যারাজ থেকে ৬৭ হাজার ২৭৫ কিউসেকের বেশি জল ছাড়া হয়েছে। এর জেরে হাওড়া ও হুগলি জেলায় বাড়ছে চাপ।
ইতিমধ্যে ঘাটালের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড চলে গিয়েছে জলের তলায়। কয়েকদিন আগেও সেখানে নৌকা চলতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘর থেকে বের হওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও খুব সঙ্গীন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে জলস্তর আরও বাড়লে বিপদ আরও বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।