নিজস্ব প্রতিনিধি, ডিব্রুগড়: অবিরাম বৃষ্টিপাতে ভাসছে উত্তর পূর্ব ভারত। অতিবৃষ্টিতে গত ৪৮ ঘন্টায় অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর এবং মিজোরাম সহ উত্তর-পূর্বের পাঁচটি রাজ্যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রচুর বর্ষণে নেমেছে ভূমিধস। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কমপক্ষে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
অসম এবং অরুণাচল প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধস ও বন্যায় একের পর এক যানবাহন-ঘরবাড়ি ডুবে গিয়েছে । বন্যার জল হাজার হাজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।
প্রতিবেশী অসমে শুধুমাত্র কামরূপ জেলাতেই পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গৌহাটির বোন্ডা এলাকায় এক বিশাল ভূমিধসে তিনজন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ১২টি জেলায় বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার জল নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে। হাজার হাজার লোককে বাস্তুচ্যুত করেছে।
অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) নিশ্চিত করেছে যে অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে কমপক্ষে ছয়টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গুয়াহাটিতে একদিনে ১১১ মিমি বৃষ্টিপাত হয়ে ৬৭ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছে।
ভারত আবহাওয়া অধিদফতর উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন অংশের জন্য লাল এবং অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। আরও বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। জনগণকে ঘরের ভিতরে থাকতে, সম্ভব হলে ভ্রমণ এড়াতে অনুরোধ করেছে।
ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীগুলি ফুলে ফেঁপে উঠছে। কর্তৃপক্ষ মহাসড়ক এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। অরুণাচল প্রদেশের ইস্ট কামেং জেলায়, শুক্রবার (৩০ মে) রাতে ১৩ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে ভূমিধসে দুটি যাত্রীবাহী এসইউভি বানা এবং সেপ্পার মাঝে গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যু হয়। কাছাকাছি একটি সুমো গাড়ি একই রকম দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়।
এদিকে একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে উত্তর সিকিম। শুক্রবার রাতভর ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে তিস্তা নদী। একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত। সিকিম সরকার উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলায় ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে। পাশাপাশি সমস্ত দফতরকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিকিমে এই মুহূর্তে প্রায় ১,৫০০ পর্যটক আটকে রয়েছেন।
#AssamFlood situation in the last 24 hours
Stay Alert! Stay Informed!#storm #disasterpreparedness #disaster #disasterrecovery #DisasterResponse #safety #emergencypreparedness #emergencymanagement pic.twitter.com/a4mlyOBaaS
— Assam State Disaster Management Authority (@sdma_assam) May 31, 2025
গত বৃহস্পতিবার চুংথাং থেকে মুন্সিথাং যাওয়ার পথে একটি পর্যটকবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তা নদীতে পড়ে যায়। গাড়িটিতে মোট ১১ জন পর্যটক ছিলেন। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ত্রিপুরার বাসিন্দা ছিলেন। এখনও পর্যন্ত একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। দু’জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা নিখোঁজ।