নিজস্ব প্রতিনিধি, ঘাটাল : রাস্তা নাকি নদী, দেখা বোঝার উপায় নেই। পশ্চিম মেদিনীপুর বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটি নদী। কিন্তু আদতে সেটি চলাচলের রাস্তা। ডিভিসির জল ছাড়ার জেরে বহু রাস্তাই চলে গিয়েছে জলের তলায়। চন্দ্রকোনার পর জলের তলায় ঘাটালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ডুবে গিয়েছে রাজ্য সড়কও। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। ফলে আতঙ্ক বাড়তে শুরু করেছে।
ঘাটালের প্রায় সব ওয়ার্ডেই জমেছে জল। রাস্তায় নেমেছে নৌকা। প্রতিবছর এই জল যন্ত্রণার ছবি দেখতে পাওয়া যায়। এবারও তার অন্যথা হয়নি।ঘাটাল পুরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডই জলমগ্ন। চন্দ্রকোনার জলে তলিয়ে গিয়েছিলেন একজন। তার দেহ উদ্ধার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকে জল ছাড়তে শুরু করেছে ডিভিসি। প্রথম দিন খুব বেশি সমস্যা না হলেও শুক্রবার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে ডিভিসি। ফলে সমস্যায় পড়েছেন চন্দ্রকোনা, ঘাটালের বিস্তির্ণ এলাকার মানুষ। শুক্রবার রাত থেকেই ৭০ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া শুরু করেছিল ডিভিসি। শনিবার সকাল পর্যন্ত ৭০,৪৭৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে। এরপরেই কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ওপরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি সরে গিয়েছে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া বিহারে। এই কারণে ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি বেড়েছে। এরজেরে জল বাড়তে শুরু করেছে দামোদর-বরাকরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাইথন-পাঞ্চেত থেকেও জল ছাড়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ডিভিসি বেশি করে জল ছাড়তে শুরু করেছে। দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরীতে জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা।
ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে প্রশাসনিক কর্তাদের ফোনেই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় জেলায় প্রশাসনিক কর্তাদের ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।