নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ৩০ জুন। এই দিনটি সারা দেশজুড়ে পালিত হয় ‘হুল দিবস’(Hool Diwas) হিসাবে। সেই দিনে সাত সকালেই বার্তা দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী(Chief Minister of West Bengal) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। বার্তা দিয়েছেন তিনি রাজ্যের সব আদিবাসী ভাই-বোনকে উদ্দেশ্য করে। বার্তা দিয়েছেন তিনি জঙ্গলমহলকে(Jungalmahal)। প্রতিবছরই তিনি সেই বার্তা দেন। কিন্তু এবার মমতার বার্তা বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক ভাবে। এদিন সকালে মমতা ট্যুইট করে তাঁর শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘হুল দিবস উপলক্ষে আমার সকল আদিবাসী ভাই-বোন সহ সবাইকে জানাই অন্তরের শ্রদ্ধা। শাসকের অত্যাচারের, শোষণের বিরুদ্ধে সিধো-কানহোর নেতৃত্বে সাঁওতালদের লড়াই আজও আমাদের প্রেরণা জোগায় মাথা উঁচু করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। সাঁওতাল বিদ্রোহের এই দুই নায়ককে সম্মান জানিয়ে তাঁদের নাম জড়িয়ে নেওয়া হয়েছে জঙ্গলমহলে আমাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।’ কিন্তু এই ছোট বার্তাই এখন রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জঙ্গলমহলে। কেন?
সদ্য হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া ব্রিগেড যে এ রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোট পাবে না সেটা সবাই জানতো। হয়েওছে তাই। এমনকি দক্ষিণবঙ্গের বিশেষ করে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কও যে বিজেপি(BJP) থেকে মুখ ফেরাবে সেটাও জানা ছিল। কিন্তু তা বলে বুথ প্রতি ৮ থেকে ১০টা ভোট! রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতে সাধারণত ৮ থেকে ১০টি ভোট পায়। কিন্তু এবারে জঙ্গলমহলের একের পর এক বিধানসভায় দেখা যাচ্ছে, একের পর এক বুথে বিজেপি প্রার্থীরা পেয়েছেন ৮ থেকে ১০টি ভোট। এখন সেই ফল সামনে আসার পরে বিজেপির নেতারা নিজেরা স্বীকার করছেন আদিবাসী প্রধান বুথগুলিতে এইরকম ফল হবে তা তাঁদের কল্পনারও বাইরে ছিল। তাঁরা স্বীকার করে নিচ্ছেন, জঙ্গলমহলের বুকে দক্ষ আদিবাসী নেতা তৈরি না করতে পারা, সংগঠন গড়ে তুলতে না পারার ব্যর্থতা আর আদিবাসী এলাকায় জনসংযোগে খামতা থেকে যাওয়ার জেরেই তাঁদের এই ফল হয়েছে।
রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একাংশও মেনে নিচ্ছেন, জঙ্গলমহলের বুকে নিচুতলায় সংগঠন বলে কিছু নেই। লোকসভা নির্বাচনের বহু আগে থেকে বাংলার গ্রামীণ এলাকায় ‘লভ্যার্থী সম্পর্ক অভিযান’, ‘গ্রামে চলো অভিযান’, ‘গৃহসম্পর্ক অভিযান’-এর মতো দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে দফায় দফায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়েছিল বঙ্গ বিজেপির তরফে। কিন্তু জঙ্গলমহলের বুকে সেই সব কর্মসূচী সেই ভাবে করাই যায়নি লোকবলের অভাবে। লোকসভার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলমহলে আদিবাসী অধ্যষিত এলাকায় যে সব বুথে বিজেপি লিড পেয়েছে সেখানেও তৃণমূলের(TMC) সঙ্গে তাঁদের ব্যবধান সামান্য। অথচ যেখানে বিজেপি হেরেছে সেখানে বড় ব্যবধানে হেরেছে। তা দেখেই এখন পদ্মশিবিরের একাংশ মেনে নিচ্ছে যে জঙ্গলমহলের বুকে সার্বিক ভাবে জনসংযোগ নেই পদ্মশিবিরের। অথচ সেই সব এলাকাতেই দলের বিভিন কর্মসূচী পালনের ছবি তুলে তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বিজেপি কর্মীরা। এখন ভোটের ফল কার্যত বলে দিচ্ছে, এই সব বিজেপি কর্মীরা কর্মসূচির নামে কেবল ছবি তুলে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সমাজমাধ্যমে ষতটা সক্রিয়তা দেখান, মাঠে নেমে তার ইঞ্চিমাত্রও করেন না।