নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে টালা থানার ওসি-সহ কলকাতা পুলিশের ১১ জন কর্মীকে তলব করল সিবিআই। আগামিকাল সোমবার (৩ মার্চ) ও মঙ্গলবার (৪ মার্চ) হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার দিন আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে টালা থানার যে সমস্ত আধিকারিক ও পুলিশ কর্মী ডিউটিতে ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।’ ঘটনার ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরে সিবিআইয়ের অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিকের কথায়, ‘আরজি করের তদন্তের নামে নাটক করে চলেছে সিবিআই। কোনও চাপে পড়েই নতুন করে জেরা পর্ব শুরু করছে।’
ইতিমধ্যেই আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে খুন-ধর্ষণর ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে আমৃত্যু কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে শিয়ালদহ আদালতের বিচারক। সিবিআইয়ের তরফে ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ আখ্যা দিয়ে আসামীকে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। যদিও বিচারক আরজি কর কাণ্ডকে বিরলের মধ্যে বিরলতম হিসাবে মানতে রাজি হননি। শিয়ালদহ আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিবিআই।
যদিও প্রথমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপরে অগাধ আস্থা রেখেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা ও তৃণমূলের কট্টর বিরোধী হিসাবে পরিচিত ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ আন্দোলনের কুশীলব জুনিয়র চিকিৎসকরা। পরে অবশ্য ডিগবাজি খেয়ে সিবিআইয়ের উপরে আস্থা না রাখার কথা জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। যে সংস্থার উপরে অনাস্থা সেই সংস্থার অধিকর্তার সঙ্গেই গত সপ্তাহে দিল্লিতে এসে সাক্ষাৎ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তার পরে ঘটা করে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তা কী আশ্বাস দিয়েছেন তাদের। ওই সাক্ষাতের কয়েকদিনের মধ্যেই কলকাতা পুলিশের ১১ কর্মীকে সিবিআইয়ের আচমকা তলব একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।