নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : স্বামী সন্তানের সঙ্গে ভূস্বর্গে গিয়েছিলেন ঘুরতে। কিন্তু সেই ঘোরাই যে কাল হবে তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বেহালার সমীর গুহ-র স্ত্রী শর্বরী গুহ। ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর থেকে অনেকটাই শান্ত হয়েছে কাশ্মীর। এই কারণে পর্যটকদের ভিড়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল জম্মু-কাশ্মীর। কিন্তু আচমকাই ছন্দ পতন। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এলাকা বলে পরিচিত পহেলগাঁওতেই জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন ২৬ জন। তার মধ্যে রয়েছেন বেহালার বাসিন্দা সমীর গুহ। জঙ্গিদের গুলিতে স্বামীকে পড়ে যেতে দেখেও কিছুই করতে পারেননি স্ত্রী শর্বরী। ১২ দিন পেড়িয়ে গেলেও এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে ওই ভয়ঙ্কর ছবি।
সেদিনের ভয়াবহতার রেশ আজও রয়ে গিয়েছে। শর্বরীদেবীর অভিযোগ, গুলির শব্দ পেয়েও দীর্ঘক্ষণ সময় লেগেছে সেনা আসতে। এতবার গুলির আওয়াজ হওয়ার পরেও সেটা কেউ শুনতে পায়নি তা হতে পারে না। এটা সেনার ব্যর্থতা বলে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেনার গাফিলতিতে এত বড় ঘটনা ঘটেছে বলে সরব হয়েছেন তিনি। বৈসরন উপত্যকার নীচেই সেনা মোতায়েন করা ছিল। কিন্তু গুলির আওয়াজ পেয়েও ঘটনাস্থলে আসতে এত সময় কী করে লাগল, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগেও টের পাননি। ছবি তুলছিলেন তাঁরা। আচমকাই গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত হন। কয়েক মুহূর্ত পরেই কলমা পড়ার কথা বলা হয় জঙ্গিদের পক্ষ থেকে। স্বাভাবিকভাবেই সমীরবাবু কলমা পড়তে না পারায় গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা।
ঘুরে বেড়ানোর আনন্দে এক নিমেষে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। শর্বরী দেবীর কথায়, কাশ্মীরের মত জায়গা, যেখানে নিরাপত্তার কথা ভাবা হয়, সেখানে গুলির আওয়াজ পেয়েও এত দেরি করে সেনা আসায় উঠছে প্রশ্ন। সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেছেন, সরকারের ইন্টেলিজেন্স ফেল। জঙ্গিরা সমীর গুহকে গুলি করার সময় বলেছিল মোদী কা আদমি। শর্বরীদেবী বলেছেন,তাঁর স্বামী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি। জঙ্গিরা কেনই বা বলল মোদী কা আদমি? বৈসরন উপত্যাকায় নির্বিচারে জঙ্গি হামলার ঘটনাটি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না শর্বরী। সেনা বা গোয়েন্দার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন তিনি। সেই ব্যর্থতারই বলি ২৬টি নিষ্পাপ প্রাণ। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ছিলেন সমীর গুহ। তাই তাঁর চাকরি দ্রুত পাওয়ার আবেদন করেছেন শর্বরীদেবী।