নিজস্ব প্রতিনিধি: মুম্বইয়ের পরে এবার চলতি মাসেই দিল্লি(New Delhi) যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচীর দিন তিনেক পরেই ২৫ জুলাই দিল্লি যেতে পারেন মমতা। তৃণমূল(TMC) সূত্রে তেমনটাই জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে সব থেকে বড় গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা। আগামী ২৭ জুলাই দিল্লিতে বসছে নীতি আয়োগের(Niti Aayog) ‘Governing Council’র নবম বৈঠক। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আবার ওই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন মমতাও। সেক্ষেত্রে সেদিন দুই রথীর মুখোমুখি সাক্ষাৎ হতেই পারে। এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর দুইজনের মুখোমুখি দেখা হয়েছিল সংসদ ভবনে(Parliament House)। রাজ্যের ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া আদায়ের দাবিতেই ছিল সেই সাক্ষাৎ। সেদিন প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন বাংলার বকেয়া দ্রুত মেটানো হবে, যদিও বাস্তবে কিছুই হয়নি। তার প্রায় ৭ মাস পর ফের রাজধানী দিল্লিতে মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি-মমতা।
এর আগে নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেননি মমতা। এবারেও তিনি নিজে সেই বৈঠকে যোগ দিতে চাননি। পরিবর্তে নিজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র অথবা রাজ্যের কোনও মন্ত্রীকে পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নীতি আয়োগ অনুমোদন করেনি। বলা হয়েছিল, গভর্নিং কাউন্সিলের এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকেই উপস্থিত থাকতে হবে। সেই মতো এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন বলেই জানা গিয়েছে। দেশে তৈরি হওয়া বিজেপি বিরোধী জোটের মধ্যেও সমন্বয় বাড়াতে চান মমতা। তিনি যে সময়ে দিল্লি যাচ্ছেন সেই সময় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলবে। তাই দিল্লিতে গিয়ে মমতা সংসদ ভবনেও যাবেন। সেখানে দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠকও করবেন বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকে সংসদে দলের নীতি ও রণকৌশল কী হবে সেটাও ঠিক করে দেবেন বলেই তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে এবারের নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক নানা দিক থেকেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা, এর আগে বহুবার নীতি আয়োগের বৈঠক নিজে এড়িয়ে গিয়েছেন মমতা। কেননা তাঁর বরাবরের অভিযোগ, নীতি আয়োগে রাজ্যের কথা শোনা হয় না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা। কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বহু টাকা বকেয়া। একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। তাছাড়া আগের চেয়ে অনেক দুর্বল নরেন্দ্র মোদির সরকার। মমতা নিজে নীতি আয়োগের বৈঠকে গিয়ে এই দুর্বল মোদি সরকারের পর চাপ সৃষ্টি করলে রাজ্যের বকেয়া সমস্যার খানিকটা সুরাহাও হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।