নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলায়(Bengal) তখনও বাম শাসন চলছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন জ্যোতি বসু। উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বুদ্ধদের ভট্টাচার্য। সালটা ২০০০। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকাল থেকে শুরু হয়েছিল বৃষ্টি, দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলাতে। নিম্ন দামোদর অববাহিকায় সৃষ্ট সেই নিম্নচাপের বৃষ্টি চলেছিল ৩ দিন ধরে। আর সেই বৃষ্টিতে যে ভয়াবহ বন্যার সন্মুখীন হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ তা এখনও অনেকেই মনে রেখেছেন। তখনকার অবিভক্ত বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদিয়া, হুগলি এবং অবিভক্ত মেদিনীপুরে যে ভয়াবহ বন্যা নেমে এসেছিল তাকে সেই সময় ‘Man Made Flood’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। তাঁর সেই দাবি বিন্দুমাত্র ভুল ছিল না। কেননা সেই সময় দেখা গিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জলাধার কার্যত জলশূণ্য হয়ে গিয়েছিল সব জল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। ২৪ বছর বাদে আবারও সেই Man Made Flood তত্ত্ব ফিরিয়ে আনলেন মমতা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। করলেন ট্যুইট(Tweet)।
আরও পড়ুন ED-তলব করেছে এমন কোনও নোটিস পাইনি, দাবি জীবনকৃষ্ণের
বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত স্থলভূমিতে প্রবেশ করে প্রথমে নিম্নচাপ ও পরে গভীর নিম্নচাপের রূপ নিয়েছিল। সেই সঙ্গে গত সপ্তাহে টানা ৩ দিনের বৃষ্টি ঝরিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের বুকে। সেই বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক ছোট নদীতে জলস্ফীতি দেখা দেয়। ডুবে যায় রাজ্যের একাধিক জেলার বেশ কিছু নীচু এলাকা। সেই জল নামার আগেই গত পরশু থেকে রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই জল ছাড়তে শুরু করে ডিভিসি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে একতরফা ভাবে জল ছাড়ছে ডিভিসি(DVC)। আর সেই জলেই বিপদ ঘনাচ্ছে বাংলায়। রাজ্যের তরফে ডিভিসিকে বলা হয়েছে, তাঁদের না জানিয়ে যেন জল ছাড়া না হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখে গেল রাজ্যের কোনও আর্জিই কানে তোলেনি ডিভিসি। রবি সকালেও দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ে ডিভিসি। আর তারপরে পরেই দুপুরে ট্যুইট বার্তা মমতার। সেখানেই তিনি জানালেন, ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের।
আরও পড়ুন কুয়ের বাঁধ ভেঙে ভেসে গেল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভূমি লাভপুর
নিজের ট্যুইটে মমতা জানিয়েছেন, ‘ঝাড়খণ্ডের জলে ইতিমধ্যেই বানভাসি হতে শুরু করেছে বাংলা। আমার সঙ্গে হেমন্তজির(Hemant Soren) এই মাত্র কথা হল। এই মানব সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির বিষয়টি আমি ওকে সামলে দিতে অনুরোধ করেছি।’ উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ শনিবার ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট জলাধার থেকেও জল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যে জল এসে জমা হয় পাঞ্চেতে। রবিবার বাধ্য হয়েই পাঞ্চেত থেকে বাড়তি জল ছাড়তে হয় বলে জানান ডিভিসির আধিকারিকেরা। ঝাড়খণ্ডের ওপরে এদিনও নিম্নচাপ অবস্থান করছে। তার প্রভাবে ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি চলছে। সেখানকার তেনুঘাট জলাধার থেকে শনিবার দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। রবিবার সকালেও জল ছেড়েছে তেনুঘাট। এদিন সকালে তাই দুর্গাপুর থেকে জল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ডিভিসি। আর তার জেরে দামোদর আর মুণ্ডেশ্বরী দিয়ে শুক্র, শনি ও রবি মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার কিউসেক জল নামছে যা দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবিয়ে দিতে সক্ষম।