নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রয়াত পিভি নরসিমা রাও, অটলবিহারী বাজপেয়ী থেকে মনমোহন সিংহ। দেশের তিন প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রিসভায় না থাকলেও সাংসদ হওয়ার দৌলতে কাছ থেকে দেখেছিলেন প্রয়াত রাজীব গান্ধি, এইচডি দেবেগৌড়া এবং ইন্দ্রকুমার গুজরালকে। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। এই সপ্তরথীর সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা কেমন তা এবার মলাটবন্দি করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ অগস্ট) ধর্মতলার মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতে স্বয়ং এ কথা জানিয়েছেন তিনি। আগামী বছর বইমেলাতেই ওই বই প্রকাশিত হবে বলেও জানিয়েছেন। আর মমতার ওই ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল বেড়েছে। কোন-কোন অজানা ঘটনা প্রকাশ্যে আসে তা জানতে উৎসুক হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
এদিন টিএমসিপির সভায় মমতা বলেন ‘আমি সাতবার সাংসদ হয়েছি। দু’বার রেলমন্ত্রী হয়েছি। কয়লা খনি মন্ত্রকেরও দায়িত্বে ছিলাম। আমি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও ছিলাম। আমি উইমেন চাইল্ড মিনিস্টার ছিলাম। ন্যাশনাল উইমেন কমিশন আমার সময় তৈরি হয়েছিল। স্পোর্টস একাডেমি আমার সময় তৈরি হয়েছিল। তাই তো এখন ছেলেমেয়েরা এত ভাল ফলাফল করছে কারণ এতদিন ধরে প্ল্যান করে করা হয়েছিল। আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। আমি একটা বইও লিখব। কে কেমন ছিল। নেক্সট বইমেলাতে বেরোবে।’
উল্লেখ্য, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির মর্মান্তিক মৃত্যুর পরে ১৯৮৪ সালে লোকসভা ভোটে যাদবপুর আসন থেকে সিপিএমের জাঁদরেল নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে ১৯৮৯ সালে যাদবপুরে দাঁরিয়ে হেরে যান। ১৯৯১ সালে দক্ষিণ কলকাতা আসন থেকে জিতে ফের সাংসদ হন। পিভি নরসিমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৯৯ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে গঠিত এনডিএ মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে বিজেপি সভাপতি বঙ্গারু লক্ষণের বিরুদ্ধে তেহলকা ডট কমের স্টিং অপারেশনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠলে রেলমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করে বাজপেয়ীর সরকার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। পরে আবার এনডিএ-তে ফেরেন তিনি। কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালে ইউপিএ-২ জমানায় মনমোহন সিংহের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্টকে হটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস জোট রাজ্যে ক্ষমতা দখল করার পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন।