নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমানে এসএসসি নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। ২০১৬ প্যানেলে যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁদের সকলেরই চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। এই চাকরি বাতিলের মোট সংখ্যা ছিল ছাব্বিশ হাজার। তবে শিক্ষক ছাড়া কোনও সরকারি বিদ্যালয় চালানো সম্ভব নয়। সেই কথা মাথায় রেখেই সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যত দিন না নতুন প্যানেল তৈরি হচ্ছে তাঁরা স্কুলে পড়াতে পারবেন। এবং তাঁদের বেতনও পাবেন।
তবে এসএসসির গ্রুপ সি ও ডি নিয়ে কোনও রায় দেওয়া হয়নি আদালতের তরফে। এই সমস্যার প্রথম দিন থেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ অর্থাৎ শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে মাধ্যমে কথা বলেন। তখনই মাননীয়া একটি বড় বার্তা দেন শিক্ষাকর্মীদের উদ্দ্যেশে। তিনি জানা, চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা মাসে মাসে একটি আর্থিক সাহায্য পাবেন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। গ্রুপ সি’র কর্মীরা পাবেন মাসে ২৫ হাজার টাকা করে সাহায্য। গ্রুপ ডি কর্মীরা সেখানে পাবেন ২০ হাজার টাকা সাহায্য।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জিজ্ঞেস করেন Group C ও Group D-দের বেতন কত, এরপর তিনি বলেন, “আমি যা বলব ওরা কি মানবে? তাহলে আমি বলব। কোর্ট চাকরি বাতিল করে দিয়েছে। মানবিকতার খাতিরে বলছি, ওরা মানলে আমি বলব।” মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরে দেন চাকরিহারা গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মীরা। তাঁরা বলেন, “ম্যাম না শুনে কী করে হ্যাঁ বলব। আমাদের এখানে প্রতিনিধিরা আছেন। না শুনে কী করে বলব…।”
এই শুনে মাননীয়া বলেন, “রিভিউ না হওয়া পর্যন্ত মানবিকতার স্বার্থে কিছু একটা ভাবতে পারি। আমরা গ্রুপ সি, ডি’র জন্যও রিভিউ পিটিশনে যাব। যোগ্য বা অযোগ্য এই বিষয়ে আমি কিছু বলব না। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি’র পুরো বাতিল করে দিয়েছে। আমি এডুকেশন বিভাগকে এর মধ্যে রাখব না। তবে কথা দিচ্ছি, সকলের জন্য রিভিউ পিটিশনে যাব। আইনের কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ শিক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। রিভিউ করতে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে পারে। চাকরি যাতে সবার বজায় থাকে নিশ্চয় চাই।”
এরপরই মমতা বলেন, “আপাতত মানবিকতার দিক থেকে ভেবে মুখ্যসচিব, শ্রম দফতর, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে একটা কথা ভেবেছি। ডানলপের কর্মীদের ১০ হাজার টাকা দিই। সেই রকমই ‘সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে’ গ্রুপ সি (Group C) দের ২৫ হাজার, গ্রুপ ডি (Group-D)-দের ২০ হাজার করে দেব। যদি তাতে ওঁরা (চাকরিহারারা) রাজি থাকেন। যতক্ষণ না ফয়সালা হচ্ছে। কোর্ট অ্যালাউ না করলে বিকল্প কী হতে পারে ভাবব।”