নিজস্ব প্রতিনিধি: রীতি মেনেই সোমবার সকালে ঈদের শুভেচ্ছা জানাত পার্কসার্কাসে রিজওয়ানুর রহমানের বাড়িতে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন দুজনে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এক ঝলক দেখতে এবং ঈদ মুবারক জানাতে রিজওয়ানুরের বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয়রা।
প্রতি বছরের মতো এদিন সকালে রেড রোডে ঈদের নমাজ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মমতা। সেখানে নমাজ আদায়ে হাজির নামাজিদের শুভেচ্ছা জানান। ওই মঞ্চ থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান মমতা। তাঁর কথায়, ‘আমি ইদের শুভেচ্ছাও দেব। নবরাত্রির শুভেচ্ছাও দেব। সব ধর্মের জন্য আমি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে পারি। যে চেঁচাচ্ছে, তাঁকে চেঁচাতে দিন। কোনও উস্কানিমূলক ভাষণে পা দেবেন না। সরকার আপনাদের পাশে আছে। দেশকে ভাগ করার চেষ্টা ব্যর্থ করব।’
রেড রোডের অনুষ্ঠানের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় সোজা চলে যায় একবালপুরের ১৬ আনা মসজিদে। সেখানে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সোজা চলে যান পার্ক সার্কাসে। লাল মসজিদের সামনে গাড়ি থেকে নেমে পড়ন। এর পর এক কিলোমিটার হেঁটে চলে যান সাদা মসজিদ পর্যন্ত। তার পর রিজওয়ানুরের বাড়ি। রিজওয়ানুরের স্মৃতিতে তৈরি বেদিতে মাল্যদানও করেন। কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
২০০৭ সালে রিজওয়ানুরের মৃত্যু নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। পুত্রহারা কিশওয়ার জাহানের ‘ইনসাফ’ চেয়ে জারি লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে রাস্তায়ও নেমেছিলেন তিনি। রিজওয়ানুরের দাদা রুকবানুর রহমান রুকবানুর বর্তমানে চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক।