নিজস্ব প্রতিনিধি : সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই প্রকল্পের সুবিধা অনেকেই পাচ্ছেন। অনেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র সিস্টেমের কারণে। লক্ষীর ভান্ডার থেকে বার্ধক্য ভাতার টাকা সঠিক অ্যাকাউন্টের জায়গায় চলে যাচ্ছে অন্য অ্যাকাউন্টে। কিন্তু কীভাবে হচ্ছে এটি?
এক অ্যাকাউন্টের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে যাওয়ার অভিযোগ রাজ্যে রয়েছে ভুরি ভুরি। মমতার প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সিস্টেমের ঘুণপোকাই। এমনই অভিযোগ উঠছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতা পুরসভার ৫ নম্বর বরোর কর্মী উমেশ দাসকে গ্রেফতারের পর একাধিক তথ্য পেয়েছেন পুলিশকর্মীরা।
অভিযোগ উঠেছে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের পাশাপাশি বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার টাকাও ভোগ করছে পুরপ্রশাসনের মধ্যে থাকা কর্মীরাই। জানা গিয়েছে, অ্যাকাউন্ট নম্বর খোদ ‘সার্ভারে’ বদলে দিয়ে টাকাও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে বড়বাজার এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে এমনই ৫৪টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। সেখানে জমা পড়ছে সরকারি প্রকল্পের টাকা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বহু অ্যাকাউন্ট নম্বর মূল সার্ভারেই বদলে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ফোন নম্বরও। একটি মোবাইল নম্বর দেখিয়ে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্ট খোলা হয়েছে। আড়ালে থেকে বড় প্রতারণা চক্র কাজ করে চলেছে। অন্যের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে। উপভোক্তাদের টাকা লোপাটের এমনই একটি চক্র বছর দুয়েক আগেও সক্রিয় হয়েছিল। তখনো উদ্যোগী হয়ে নবান্ন সেই চক্র ভেঙেছিল। ফের সেই প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে পুরসভার শীর্ষ আধিকারিক পর্ষায়েক একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে ওই ব্যাঙ্কের অফিসারদেরও থাকতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই শাখায় সরকারি প্রকল্পের কতগুলি গ্রাহক অ্যাকাউন্ট রয়েছে? অ্যাকাউন্টের আধার ভেরিফিকেশনের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। কতগুলি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ রয়েছে? ধৃত উমেশকে জেরায় পুলিশ জেনেছে, মুচিপাড়া, গিরিশ পার্ক সহ মধ্য কলকাতার একাধিক থানা এলাকায় শতাধিক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে কারচুপি করেছিল।এই ঘটনায় কারা কারা জড়িত রয়েছএ জানতে তৎপর হয়েছে পুলিশ।