নিজস্ব প্রতিনিধি : গ্রাম বাংলা হোক বা স্মার্টসিটি বর্ষায় সাপের উপদ্রব বাড়ে। জল জমে যাওয়ার কারণে নিজেদের আশ্রয় ছেড়ে তারা বাসা বাঁধে ঘর বাড়ি, রান্নাঘর বাথরুমে। তাই এই সময় সাবধানে থাকতে হয়। গ্রাম বাংলায় সাপের সঙ্গেই লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। যত দ্রুত সম্ভব সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা শুরু হওয়া দরকার। সাপের কামড় চিনতে এবার তৈরি হচ্ছে কিট।
চিকিৎসা দ্রুত শুরু করতে গেলে জানা দরকার কোন সাপ কামড়েছে। কালাচ, চন্দ্রবোড়া, কেউটে নাকি গোখরো, জানা সবার আগে দরকার। এবার সেই তথঅয জানতে যৌথ গবেষণা শুরু করেছেন রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর ও কল্যাণী এইমসের চিকিৎসকরা। এই গবেষণা করছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা রাজ্যের রিসোর্স পার্সন ডাঃ দয়ালবন্ধু মজুমদার, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডাঃ শুভেন্দু বাগ, এইমস কল্যাণীর সংক্রামক রোগ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান ডাঃ সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। ডেঙ্গু হোক বা ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ। কারণ এরজন্য রয়েছে র্যাপিড ডিটেকশন কিট। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, বিষধর সাপ কামড়ালে মানুষের শরীরে রক্ততঞ্চন প্রক্রিয়া নষ্ট হয়। সেটা হয়েছে কিনা জানতে পরীক্ষা করা হয়। ২ এমএল রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করতে ২০ মিনিট সময় লাগে। রক্ত জমাট বেঁধে গেলে জানা যাবে বিষধর সাপ কামড়ায়নি। বা বিষ শরীরে প্রবেশ করেনি। রক্ত জমাট না বাঁধলেই বিপদ। সঙ্গে সঙ্গে এভিএস দেওয়া শুরু করতে হয়। কিন্তু চন্দ্রবোড়ার মত কিছু ক্ষেত্রে ২০ মিনিটে রক্ততঞ্চনে প্রভাব পড়ে না। কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। সেই সময় রোগীকে ফেলে রাখার অর্থ মত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ হওয়ার পরও অ্যান্টিভেনাম দেওয়ার অর্থ জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন নষ্ট।
সেই সমস্যা সমাধান করতে দ্রুত সাপের ধরন জানতে শুরু হয়েছে গবেষণা। কোন সাপ কামড়েছে দ্রুত জানতে পারলে গোটা চিকিৎসা প্রক্রিয়াই অনেক মসৃণ হয়। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে অর্থসাহায্য করছে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতর।