নিজস্ব প্রতিনিধি: হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন যাদবপুরের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত।আপাতত ১৫ দিন বাড়িতেই বিশ্রামে থাকতে হবে তাঁকে। তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলও উপাচার্য এখনও সংকটমুক্ত নন বলেই জানা গিয়েছে। ১৫ দিনে তাঁকে বাড়িতে বিশ্রাম করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিত্সকরা। কোনভাবেই মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। আপাতত কারও সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ বা কোনও বৈঠক না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এই নিয়ে ভাস্কর গুপ্তের স্ত্রী কেয়াকে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘এই তো সবে বের করে নিয়ে যাচ্ছি।ভালো কি থাকেন বলুন তো। বাড়িতে বিশ্রামে থাকবে। ডাক্তার ১৫ দিন বেড রেস্ট বলেছে। যতদিন ওকে আমি রাখতে পারি।পুরোপুরি সংকটমুক্ত নন তিনি। কোনরকম মানসিক চাপ নিতে বারণ করেছে ডাক্তাররা।’ এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া কি সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে কেয়া গুপ্ত জানান, ‘এখন সম্ভব নয়। তবে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠলে পুনরায় বিশ্ববিধ্যালয় যেতে পারবেন।’
যাদবপুর কাণ্ডে আহত হয়েছিলেন উপাচার্য। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চোট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন উপাচার্যকে। এইদিন অসুস্থ উপাচার্যকে দেখে তিনি জানিয়েছিলেন, তার সঙ্গে যেন মানবিক ব্যবহারটুকু করা হয়। ডাক্তার তাকে বারণ করেছে স্ট্রেস নিতে।তার স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে।হার্টের অবস্থা ভালো নয়। আমি সবপক্ষকে অনুরোধ করব, উপাচার্যের বাঁচার লড়াইয়ের মাঝে যেন মানবিক ব্যবহার করা হয় তার সঙ্গে’।
উল্লেখ্য, গত শনিবার(পয়লা মার্চ) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ধাক্কাধাক্কিতে চোট পান খোদ শিক্ষামন্ত্রী। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অশান্তি তৈরির চেষ্টা শুরু করে বাম ছাত্ররা। বেলার দিকে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা তৃণমূলের শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিসেও ব্যাপক ভাঙচুর শুরু হয়।এমনকী অগ্নিকাণ্ডেরও ঘটনা ঘটে।ঘটনাস্থলে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু পৌঁছোতেই তার গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জখম হন যাদবপুরের দুই ছাত্র। এদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পড়ুয়াদের হাতে লাঞ্চিত হন। এই ঘটনায় তিনিও জখম হয়েছিলেন। তখন থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।