নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাড়গোড় ভাঙলে আর চিন্তা নেই। এবার রাজ্যে চালু হচ্ছে হাড়ের ব্যাঙ্ক। শুনে অবাক লাগছে তো? পূর্ব ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার চালু হতে চলেছে হাড়ের ব্যাঙ্ক। আর তার নেপথ্যে রয়েছে শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালের কৃতিত্ব। এই হাসপাতালের এসএসকেএম বাপি জি হাসপাতালের এনেক্স হাসপাতাল হিসাবে এই ব্যাঙ্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবের অনুমোদন ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে।
ছোটবেলায় মা বাবার কাছে বকুনি খাওয়ার সময় অনেকেই হাড় ভেঙে দেবো কথাটি শুনেছেন। যারা এই কথাটি শুনে অভ্যস্ত তাদের আর ভয় পাওয়ার দরকার নেই। হাড় ভাঙলেও এবার নতুন হাড় পাওয়া যাবে। হাড়ের ব্যাংক চালু হলেই বিভিন্ন দূর্ঘটনা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিল পরিস্থিতিতে রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই ব্যাঙ্ক। যাদের হাত-পা ভেঙে গিয়েছে অথবা যারা ক্যান্সার বা সংক্রমণের কারণে হাড় কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন তাদের জন্য হাড় প্রতিস্থাপন করা হবে। সেই জন্য এই ব্যাঙ্কে সংরক্ষিত হবে হাড়। ঠিক যেরকম আই ব্যাঙ্কে সংরক্ষিত হয় চোখ, ব্লাড ব্যাঙ্কে সংরক্ষিত হয় রক্ত, এখানেও সেরকমভাবে সংরক্ষিত হবে হাড়।
হাড়ের ব্যাঙ্কের মাধ্যমে দুটি চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া সম্ভব। যদি দুর্ঘটনাজনিত কারণে বা আঘাত জনিত কারণে হাড় ভেঙে যায় তাহলে হাড়ের প্রতিস্থাপন করা যাবে। দ্বিতীয় কারণ হল চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও কারণে যদি হাড় কেটে ফেলতে হয় তাহলে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে হাড় নিয়ে পুনরায় জোড়া দেওয়া যাবে।
শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে বর্তমান পরিকাঠামো এবং চিকিৎসক দল ও লোকবল ব্যবহার করেই এই হাড়ের ব্যাঙ্ক তৈরি করা হবে। এই ব্যাঙ্ক একবার চালু হলে পূর্ব ভারতের চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে এক অনন্য দিক উন্মোচিত হবে সে কথা আর বলে দিতে হয় না। এই হাড়ের ব্যাঙ্ক চালু হলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। বহু আঘাত জনিত জটিল রোগের কারণে হাড়ের চিকিৎসায় উচ্চমানের সুবিধা পাওয়া যাবে।