নিজস্ব প্রতিনিধি: বহুল চর্চিত আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের তদন্ত কত দিনে শেষ হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও জবাব দিতে পারল না সিবিআই। শুক্রবার (২৮ মার্চ) কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘তদন্তে কত দিন সময় লাগবে?’ জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় যে, কত দিন সময় লাগবে।’ আগামী দুই সপ্তাহ বাদে মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন তদন্তের গতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে অবস্থান জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
নতুন করে আরও গভীরভাবে তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা ও মা। গত শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সিবিআইয়ের কাছে তিনটি বিষয় জানতে চেয়েছিলেন। এক, নির্যাতিতার ধর্ষণ না কি গণধর্ষণ হয়েছিল? দুই, সঞ্জয় রায় ছাড়া আর কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না? তিন, কেন আরও তদন্ত চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিবিআই? এদিন মুখবন্ধ খামে ওই তিন প্রশ্নের জবাব দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই তিনটি বিষয় জানিয়ে আদালতে সিবিআই রিপোর্ট জমা দেয়। সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান ‘আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণের ঘটনায় একজন জড়িত। ঘটনাস্থলে পাওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা হয়েছে। এক জন পুরুষের নমুনার মিল পাওয়া গিয়েছে। কোনও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। তদন্তে নেমে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করার পরেই এ বিষয়ে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। তাছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তাদের মতামতে জানিয়েছেন, নির্যাতিতা গণধর্ষিতা হননি।’
ওই কথা শুনে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে সিবিআই এই মুহূর্তে কী করছে ?’ উত্তরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী বলেন, ‘ঘটনা ঘটার পরবর্তী পর্যায়ে যা যা অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা থেকে অন্যান্য যেসব অপরাধের বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্যপ্রমাণ নষ্টের ক্ষেত্রে কে বা কারা যুক্ত রয়েছে ? বা কারা যুক্ত থাকতে পারে ? তা ভালভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এর পরেই বিচারপতি নির্দেশ দেন, ‘এই মামলায় কত জনের বয়ান নেওয়া হয়েছে পরবর্তী শুনানির দিন তা জানাতে হবে। যাঁরা বয়ান দিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা আদালতে জমা দিতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা বদলের ফলে কলকাতা পুলিশের কেস ডায়েরি সিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। সেই কেস ডায়েরি আদালতে জমা দিতে হবে।’