নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস, দেশের প্রতিটি রাজ্যে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। কলকাতার রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জাঁকজমক ভাবে পালিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবস। এদিন দেশের তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নানারকম অনুষ্ঠানে সেজে উঠেছিল রেড রোড। প্রতিবছরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রেড রোডে কুচকাওয়াজ, জমকালোভাবে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস। নিজের দাঁড়িয়ে থেকে সবটা সামলান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া শুক্রবার সকাল সকাল জাতীয় রাজধানীর লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন করে শহিদদের স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজকের দিনে ২০০ বছরের ইংরেজ শাসন থেকে ভারত পুরোপুরি মুক্তি পেয়েছে। তবে স্বাধীনতার জন্যে প্রাণ হারিয়েছেন দেশের অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদেরকে আজকের দিনে স্মরণ করা হয়। তবে ভারত কী স্বাধীনতা পেয়েছে? চারিদিকে গুণ্ডামি, রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা, মেয়েদের ধর্ষণ, খুন, ডাকাতি সহ একাধিক অপরাধ এখনও ভারতকে মুড়ে রেখেছে।
এদিকে মাস কয়েক ধরেই পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি বলে পুলিশের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। ভিন রাজ্যে বাংলা বলেই বিপাকে পড়ছেন তাঁরা। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে তাদের আটক করছে পুলিশ, কোনও কোনও মানুষকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে গ্রেফতার করে নানারকম অত্যাচার করা হচ্ছে, এই নিয়েই জাতীয় রাজনীতি তোলপাড়। বাঙালিরা ভিন রাজ্যে গিয়ে পুলিশের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, এই নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন তৃণমূল। প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। স্বাধীনতার দিনেও বাদ গেল না! এবার ভিন রাজ্যে বাঙালিদের সুরক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললেন ফিরহাদ হাকিম, বাঙালি আস্মিতা নিয়ে সরব হলেন মেয়র। আজ কলকাতা পুরসভায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সঙ্গে ছিলেন তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম, পুর কমিশনার ধবল জৈন, সমস্ত বিভাগীয় ডি জি, সহ পুর আধিকারিক। এদিন দিনের পুর সভার ভিতরে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্যারেডে সামিল হন কলকাতা পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার। এদিন স্বাধীনতা দিবসের উপলক্ষে অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কলকাতা পুরসভার স্কুলের কচিকাঁচারা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলকাতা পুরসভায় উদযাপন হল স্বাধীনতা দিবস।
এদিন পতাকা উত্তোলনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম বাঙালি অস্মিতায় সরব হয়ে বললেন, ‘দেশকে স্বাধীনতা করার জন্য সবচেয়ে বেশি যাদের অবদান সেই বাঙালিদের আজকে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। যারা স্বাধীনতার জন্য সবচেযে বেশি প্রাণ দিয়েছিল আজকে তাদেরকে অপমান করা হচ্ছে। যদি নেতাজি না থাকতেন তাহলে স্বাধীনতা আসত না, যদি গান্ধীজি থাকতেন, স্বাধীনতা আসত না যদি ক্ষুদিরাম থাকত না তাহলে স্বাধীনতা আসত না। অনেক বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী কখনও সেলুলার জেলে, কখনও এখনকার জেলে আবার কখনও দেশের বিভিন্ন জেলে নিজেদের প্রাণ দিয়েছেন। আর সেখানেই বাঙালিদের অপমান করা হচ্ছে।’