নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তরপাড়া: অভিনেতা রাজনীতিবিদ কাঞ্চন মল্লিক বেশ রশে বশে থাকতেই পছন্দ করেন। মাঝেমধ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেলা ইদানিং সময়ে তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কাঞ্চনকে প্রচারের সময় নিজ গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছিলেন। আরজি কর আন্দোলনের সময় চিকিৎসকরা যখন পরিষেবা না দিয়ে ধর্ণায় বসেন তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে সরকারের থেকে কি বেতন নেবেন না চিকিৎসকরা? সাম্প্রতিক সময়ে ট্রপিক্যাল মেডিসিনে গিয়ে এক চিকিৎসককে শাসিয়ে আসার ঘটনায় ফের জড়িয়ে গিয়েছিল তাঁর নাম। ফলে বারবার কাঞ্চনকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। এবার ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ অনুষ্ঠানে এসেও ক্লাসের ‘দুষ্টু ছেলে’ কাঞ্চনের নামে অভিযোগ শুনতে হল ববি হাকিমকে।
রাজ্যবাসী যাতে চটজলদি সরকারি পরিষেবা পান তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ নামে এক নতুন কর্মসূচির সূচনা করেছেন। পাড়ায় পাড়ায় এখন সেই কর্মসূচি চলছে। উত্তরপাড়ায় এই কর্মসূচি কেমন চলছে তা দেখতে গিয়েছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তখনই এলাকাবাসীর কাছ থেকে কাঞ্চন মল্লিক সম্পর্কে উঠে এল ভুরিভুরি অভিযোগ। দলের বিধায়কের নামে এহেন অভিযোগ শুনে কার্যত অস্বস্তিতে পড়েন ববি। তৃণমূলের কাউন্সিলর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, সকলেরই ক্ষোভ জমে রয়েছে কাঞ্চনের ওপর।
মঙ্গলবার হুগলির উত্তরপাড়ায় রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম যান ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি কেমন চলছে তা দেখতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে কাউন্সিলর পর্যন্ত সকলেই। শুধু ছিলেন না এলাকার বিধায়ক স্বয়ং। এই বিষয়টি চোখ এড়ায়নি মেয়রেরও। কিন্তু তিনি কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই কার্যত ক্ষোভ উগড়ে দেন অন্যরা। তৃণমূলের নীচু স্তরের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল কাউন্সিলর, প্রত্যেকে রীতিমতো নালিশ করতে শুরু করেন।
উত্তরপাড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাপস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের বিধায়ককে কোনও কিছুতেই পাওয়া যায় না। ওঁকে শুধু মোবাইলে দেখা যায় নাচগান করতে, হামাগুড়ি দিতে। আসলে উনি বিধায়ক হওয়ার যোগ্যই নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টিকিট দিয়েছিলেন। দলের কর্মীরা খেটে তাঁকে বিধায়ক করেছেন। কিন্তু উত্তরপাড়ার মানুষ তাঁর থেকে কিছুই পাননি।’’
সবটাই শুনেছেন ফিরহাদ, কিন্তু কোনও মন্তব্য করেননি। বরং উত্তরপাড়া জয়কৃষ্ণ পাঠাগারে হওয়া কর্মসূচি থেকে বলেছেন, ‘‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান রাজ্যের প্রতিটি বুথে মানুষের সমস্যা এবং চাহিদা শুনে তার সমাধান করছে। এটা পুরো ভারতের মধ্যে অভিনব কর্মসূচি। হয়তো আগামীদিনে কেন্দ্রীয় সরকার শিখবে। যেমন ভাবে এই রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প দেখে তারা শিখেছে। এটা মানুষের খুব উপকারে আসছে। কারণ, মানুষ তৃণমূলস্তরের সমস্যা তুলে ধরছেন এবং তার সমাধানও হচ্ছে।’’
তারপরেই কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে এবং তৃণমূলের গুনগান গেয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। আসলে সারাবছর পড়াশোনা করলে পরীক্ষার সময় পড়তে হয় না। আমরা সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। তাই আমাদের চমক দেওয়ার দরকার পড়ে না।’’