নিজস্ব প্রতিনিধি: আশঙ্কাই সত্যি হল। বাংলাদেশে যেমন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় যেমন পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের চররা গুজব ছড়িয়েছিল, তেমনই আরজি কর নিয়েও সক্রিয় হয়েছে তারা। কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি করের ঘটনা ও আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গুজব ছড়ানো ২৮০টি প্রোফাইল চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩০টির আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে দেখা গিয়েছে, সেগুলি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। বাকি প্রোফাইলগুলি বিজেপি শাসিত তিন রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের। ‘গুজব’ রটানোদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিন রাজ্য পুলিশকে চিঠিও দেওয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে সরানোর জন্য ‘অপারেশন সাইক্লোন’ অভিযান শুরু করেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে করাচি থেকে ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছিল আইএসআইয়ের ১৬ জন ‘ডিপ অ্যাসেট’। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া সেজে লাগাতার আন্দোলন নিয়ে গুজব ছড়িয়ে গিয়েছিল। আর ওই পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন আইএসআইয়ের দুই প্রাক্তন আধিকারিক জাভেদ মেহেদি এবং শাহিদ মেহেমুদ মহম্মদ শরিফ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশে জাঁকিয়ে বসেছে আইএসআইয়ের চরেরা। এবার ভারতকে অশান্ত করতে ‘অপারেশন টোপাজ’ শুরু করেছে। তার অংশ হিসাবেই আরজি কর নিয়ে গুজব রটানোর মতো কাজে কোমর কষে নেমে পড়েছে।
গোয়েন্দারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবেই আরজি কর কাণ্ড নিয়ে সমাজমাধ্যমে ‘গুজব’ রটিয়ে কার্যত অরাজকতা তৈরির গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ইতিমধ্যেই ‘অপপ্রচার’ চালানোদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। সোমবারই কট্টর তৃণমূল বিদ্বেষী হিসাবে পরিচিত এবং ‘আগ মার্কা’ সিপিএম ও বিজেপি সমর্থক হিসাবে পরিচিত দুই চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী ও কুণাল সরকারকে তলব করা হয়েছিল লালবাজারে। সিপিএম পন্থী হিসেবে পরিচিত আরও ৬৭ চিকিৎসককে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা ‘গুজব’ রটানোর পাশাপাশি জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার উস্কানি দিচ্ছেন। আর ওই চিকিৎসকরা অধিকাংশই সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত ও বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত। তাদের একটাই লক্ষ্য, সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালের উপরে নির্ভরশীল করে তোলা।