Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

কালীঘাটে এসে হঠাৎই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা, কী কারণে?   

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: তারা মায়ের পাগল ছেলে বামাচরণ চট্টোপাধ্যায়, যিনি পরবর্তীতে বামাক্ষ্যাপা নামে খ্যাতি লাভ করেন। জানা যায়, এই কালীসন্তান একবার কলকাতায় এসেছিলেন। সেবার তিনি কালীঘাটে যান মা কালীকে দর্শন করতে। মন্দিরে যাওয়ার আগে শ্মশানঘাটে পাশের আখড়ায় গাঁজা খেয়ে বামাক্ষ্যাপা আদিগঙ্গায় স্নান করতে গেলেন ৷ এমনভাবে তিনি সেই গঙ্গায় স্নান করছিলেন, দেখলে মনে হচ্ছিল, যেন মায়ের কোলেই তিনি খেলা করছেন। পাড়ে দাঁড়িয়ে অগণিত ভক্তের ঢল বামাক্ষ্যাপার গঙ্গাস্নান দেখতে লাগল। অনেকক্ষণ ধরে বামাক্ষ্যাপা গঙ্গাস্নান করেই গেলেন, তাঁর স্নান যেন আর শেষই হচ্ছে  না। এদিকে কালীঘাটের মন্দিরে মায়ের পুজো, ভোগ আরতি শেষ হয়ে গিয়েছে। বামাক্ষ্যাপা হঠাৎ আদিগঙ্গার জল থেকে উঠে এলেন। বোধহয় কালীঘাটের মা নিজেই তাঁকে ডাকলেন। ত্র্যস্ত পদে বামা আদিগঙ্গার পাড় থেকে মন্দিরের পথটুকু ভিড়ের মধ্যে দিয়ে তাড়াতাড়ি হেঁটে যেতে লাগলেন।

আদিগঙ্গায় স্নান সেরে তিনি এসে দাঁড়ালেন একেবারে মাতৃমূর্তির সামনে। জগজ্জননী মা ও তার সন্তান একেবারে মুখোমুখি। অপলক দৃষ্টিতে বামাক্ষ্যাপা চেয়ে রইলেন তাঁর ছোটমার দিকে। হৃদয়সমুদ্র উথলে উঠল ভক্তি লহরীতে। দু’চোখ বেয়ে দরদর করে নেমে এল পরমানন্দের মন্দাকিনী ধারা। ভাবে আত্মহারা হয়ে উঠলেন বামাক্ষ্যাপা। মাতৃদর্শনে সাধক বামাক্ষ্যাপার প্রাণ ভরে গেল। আবেগে বিহ্বল হয়ে বামাক্ষ্যাপা কাঁদতে কাঁদতে ‘মা’, ‘মা’, বলে চিৎকার করতে লাগলেন। প্রেমানন্দে মাতোয়ারা হয়ে বামাক্ষ্যাপা মায়ের সামনে নাচতে শুরু করলেন। কে বলে বামা রুদ্র ভৈরব? — বামা প্রকৃতই মায়ের পাগল ছেলে। সেইজন্যই তো তিনি বামাক্ষ্যাপা।

কালীঘাটের মন্দিরের পুরোহিত ভক্তরা বামাক্ষ্যাপার সেই নৃত্য দেখতে লাগলেন। একসময় নাচতে নাচতেই বামাক্ষ্যাপা মন্দিরের মধ্যে সমাধিস্থ হয়ে পড়লেন। ধীরে ধীরে চোখদুটি হয়ে এল অর্ধনিমীলিত। তার একটু পরেই সমাধি থেকে জেগে মাতৃপ্রেমিক বামাক্ষ্যাপা বিবশভাবে বলে ওঠেন, ‘এই যে আমার কালী মা। রূপের কি ছটা, মাথায় আবার মোহিনী জটা, যেমনি লকলকে জিভ, তেমনি টানা টানা চোখ, যেন জ্বলজ্বল করছে। তুই কাদের মেয়ে রে ? চল না মা, তোকে তারা মা’র কাছে কোলে করে নিয়ে যাই। তুই যাবি তো, বেশ বেশ — তবে আয় আমার কোলে।’ এই বলেই  আত্মহারা উন্মত্ত বামাক্ষ্যাপা ‘মা’ ‘মা’ বলে স্নেহ বাৎসল্যে পাষাণময়ী বিগ্রহকে কোলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতেই রে রে করে তেড়ে এলেন  পূজারী পাণ্ডারা। স্পর্শ করতে দিলেন না নিত্যশুদ্ধ চৈতন্যরূপিণী দেবী কালিকার বিগ্রহ। বামাক্ষ্যাপার অন্তরের ভাব সাধ্য ছিলোনা তাদের।

জানা যায়, সেই সময় থেকে আজও সেবাইত ছাড়া আর কেউ বিগ্রহ স্পর্শ করতে পারেন না, এমনটাই নিয়িম সেখানকার। সে নিয়ম তখন রক্ষাও হল বটে। বামাক্ষ্যাপার দিব্যদৃষ্টিতে জননীর সেই স্নেহময়ী রূপ ও ভাব মিলিয়ে গেল মুহুর্তে। বহির্নয়নে ভেসে উঠল পাষাণময়ীর বিকট রূপ ও কঠিন মুখমণ্ডল। বিচ্ছেদ হল দিব্যভাবের। এবার শ্মশানচারী ঘোর তান্ত্রিক ঊর্ধ্বরেতা বামাক্ষ্যাপা রুদ্র মূর্তি ধারণ করে বললেন, ‘চাই না তোদের রাক্ষসী কালীকে, যেমন কেলে রূপ, তেমনি লকলকে, মস্ত জিভ, যেন গিলতে আসছে। আহা, আমার তারা মা’র যেমন ছোট্ট জিভ তেমন রূপের ছটা, মাথায় জটা, পা দু’খানি খুরখুরে। চাই না তোদের কেলে কালী, আমার আকাশ তারাই ভালো।’

মুহুর্তেই মন্দিরের পরিবেশ হয়ে উঠেছিল গম্ভীর, নীরব, এমনকী দর্শনার্থীরাও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় কালীঘাটের প্রধান সেবক হালদারমশাইরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তাঁরা ভর্ৎসনা করলেন পুরোহিতদের। অপরাধ স্খলনের জন্য অনুরোধ করলেন নিরভিমান বামাক্ষ্যাপাকে, ‘না বাবা, আপনি স্পর্শ করতে পারেন মাকে।’ ক্রোধ উপশম করলেন বামাক্ষ্যাপা। কোনও অভিশাপ বর্ষিত হল না সেবাইত পূজারীদের উপরে। বামা বুঝতে পারলেন, মা-ই বাধা দিয়েছেন ওদের মাধ্যমে। তাই নিরভিমানের অভিমান হল মায়েরই উপর। তিনি আর স্পর্শ করলেন না মায়ের পাষাণ বিগ্রহ। ধীর স্থির শান্ত অচঞ্চল পদক্ষেপে সিদ্ধপুরুষ বামাক্ষ্যাপা মন্দির থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন।

 

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00