পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : দেবী রূপে সরস্বতীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গ্রন্থ ঋগ্বেদে। এই ঋগ্বেদে প্রাচুর্য ও শক্তির বৈশিষ্ট্যের মূর্ত প্রতীক হিসেবে সরস্বতীর উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। বেদের ব্যাখ্যানুসারে “সরস্বতী” কথাটি সরস্ ও বতী-র মিলন এসেছে, যার অর্থ জ্যোতির্ময়ী।
শাস্ত্রানুসারে, দেবী সরস্বতী ৬৮ কলায় পারদর্শী। তাঁর চতুর্ভুজা। একটি হাতে জল, একটি হাতে জপমালা, একটি হাতে পুস্তক ও অন্য হাতে বীণা। এই প্রত্যেকটিরই ভিন্ন ভিন্ন অর্থ আছে। জল নির্মলতা বা শুদ্ধতার প্রতীক। পুস্তক বেদের কারক। জপমালা মনসংযোগ ও আধ্য়াত্মিকতার কারক এবং বীণা সঙ্গীত বা ছন্দের কারক। শুধু হিন্দুই নয়, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মেও এই দেবীর আরাধনার উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া রামায়ণেও দেবী সরস্বতীর অবদানের কথা উল্লেখ আছে।
পৌরাণিক বিবৃতি অনুসারে, আদি শক্তি মহামায়ারই একটি রূপ সরস্বতী। তিনিই কালী, তিনিই সতী, আবার তিনিই মহালক্ষ্মী, তিনিই তারা। তাই বৈদিকযুগে তন্ত্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে নীলসরস্বতীর আরাধনার উল্লেখ পাওয়া যায়। যা দেবীর প্রণাম মন্ত্রটি ব্য়াখ্যা করলে অতি সহজেই জানতে পারা যায়।
মন্ত্রটি হল : ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ। বেদ-বেদান্ত বেদাঙ্গ-বিদ্যাস্থানভ্যঃ এব চ ।।
অর্থাৎ ভদ্রকালীকে (মঙ্গলদায়িকা ভগবতী) নিত্য নমস্কার। দেবী সরস্বতীকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার ও বেদ-বেদান্ত-বেদান্তাদি-বিদ্য়াস্থানকে নমস্কার।
হিন্দুশাস্ত্র মতে, যাদের বিদ্যায় বার বার বাধা আসে অথবা যারা বিশেষ স্থানাধিকার করতে আগ্রহী, তারা এই শুভ দিনে সরস্বতীপূজার সাথে সাথে “নীল সরস্বতী”র আরাধনা করতে পারেন। তার সাথে “নীল সরস্বতীর কবচ” এবং চারমুখী রুদ্রাক্ষও ধারণ করতে পারেন। অথবা “সরস্বতী যন্ত্র” বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করলেও সুফল লাভ করবেন। জানা যায়, দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারাকে নীল সরস্বতী রূপে বন্দনা করা হয়।
নীল সরস্বতীর মূল মন্ত্রঃ
ঐং ওং হ্রীং স্ত্রীং হূং ফট্।
নীল সরস্বতীর মহামন্ত্রঃ
ওং হ্রীং শ্রীং হ্রীং ঐং হূং নীল সরস্বতী ফট্ স্বাহা।