নিজস্ব প্রতিনিধি, তেহট্ট : তেহট্টের পাথরঘাটার বাড়িতে এসে পৌঁছেছে শহিদ ঝন্টু আলি শেখের দেহ। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজির হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বাড়ির সামনে একটি ঈদগাহ মাঠে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ। সেখানে সকলে তাঁকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। শনিবারই তাঁকে কবরস্থ করা হবে। গান স্যালুটের মাধ্যমেই শহিদ ঝন্টু আলি শেখকে সম্মান জানানো হয়েছে।
চোখের জলে ঘরের ছেলেকে বিদায় জানাল তেহট্টবাসী। পহেলগাঁও-র নারকীয় ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে প্যারাকমান্ডো ঝন্টু আলি শেখের। শুক্রবারই তাঁকে দেহ পৌঁছেছে রাজ্যে। বিমনবন্দরেই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এরপরেই তাঁর দেহ রওনা দিয়েছিল নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে। গোটা গ্রাম বুকে পাথর দিয়ে অপেক্ষায় ছিল তাঁর। শহিদের দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার সহ এলাকা। চোখের জল যেন বাঁধ মানে না। গ্রামের বীর সন্তানকে শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ঝন্টু আলি শেখের প্রতিকৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে শহিদ বেদী।
তেহট্ট থেকেও উঠেছে প্রত্যাঘাতের শ্লোগান। আত্মীয়-পরিজন থেকে রাজনৈতিক নেতারাও শনিবার হাজির হয়েছিলেন তেহট্টে শহিদের বাড়িতে। সকলেই এসেছেন পরিবারের পাশে থাকতে। স্বামীর মৃত্যুর খবরও প্রথমে জানতে পারেননি স্ত্রী। জানতেন কাঁধে গুলি লেগেছে। কিন্তু সেই গুলি যে তাঁর জীবনটাই পাল্টে দিয়েছে তা অনেক পরে জানতে পেরেছেন।
জানা গিয়েছে, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আগ্রায় থাকতেন ঝন্টু। তাঁর দেহ নিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় প্যারাকমান্ডার বাহিনী। শনিবার ঈদগাহের মাঠে শহিদ ঝন্টুকে শেষশ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গোটা মাঠে হাজির হয়েছিলেন বহু মানুষ। সকলের চোখেই জল। ঘরের ছেলের এমন মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছে না তেহট্টবাসী।