নিজস্ব প্রতিনিধি : দত্তপুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের মুণ্ডহীন দেহ নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বেশ কিছু দিন ধরে।তবে এই মুণ্ডু কার তা প্রাথমিকভাবে জানা যায় নি। অবশেষে ঘটনার তিন দিন পর সামনে এল কাটা মুণ্ডুর পরিচয়। শনাক্ত করা সম্ভব হল মৃতদেহটি। দেহটি হজরত লস্কর নামে এক ব্যক্তির।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটার আঙুলকাটা গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী হজরত লস্কর গত দু তারিখ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এই নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমেছিল পুলিশ। পুলিশ জানায় নিঁখোজ এই ব্যক্তি সামাজিক অপরাধমূলক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে কাটা মুণ্ড উদ্ধার করতে পারেনি। মিলেছিল কাটা হাত। সঙ্গে সেই হাতে উল্কি। তবে এত কিছুর পরও মেলেনি কাটা মাথা। তবে দেহটি কার তা নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেছিল পুলিশ। অবশেষে জানা গেল পরিচয়। গাইঘাটার আঙুল কাটায় শ্বশুরবাড়ি হজরত লস্করের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ম্যাচ করেছে। তার পরিবারের লোকজন বারাসাত মেডিকেল কলেজের মর্গে এসে দেহ আইডেন্টিফাই করে। মৃত ব্যক্তির নাম হজরত লস্কর। হজরত লস্কর আসলে লক্ষীকান্তপুরের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে তারা একাধিক বিয়ে আছে। লাস্ট বরানগরের ঝুপড়ি এলাকায় থাকতো। গ্রুপ করে চুরি ছিনতাই এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল হজরত।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপাড়া থানার কোনও এক অফিসারের সহযোগিতায় হজরত সম্প্রতি চুরির পথ ছেড়ে দিয়েছিল। সৎপথে রোজগারের চেষ্টা করছিল। এমনকী নিজের গ্রুপের বেশ কয়েকজনকে ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই কারণেই কি তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হল? তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশ বছর আটত্রিশের ওয়েদুল গাজি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গাইঘাটা থানায় গত ২ তারিখে মিসিং ডায়েরি করে তাঁর পরিবার। হাতের ট্যাটুও ম্যাচ করেছে। সকালে হযরত লস্করের স্ত্রী তার স্বামীর দেহ শনাক্ত করার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এড়িয়ে যাই। রাতের দিকে ওই মহিলা স্বীকার করেন ওই দেহ তার স্বামী হযরত লস্করেরই।