নিজস্ব প্রতিনিধি : পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে স্ত্রী। শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই স্ত্রীয়ের গলায় কোপ স্বামীর। এখানেই শেষ নয়, স্ত্রীকে খুন করে নিজেকেও শেষ করে দেওয়ার মত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যক্তির। ভয়াবহ এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তারকেশ্বরের তালপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায়।
সূত্রের খবর, বছর ৪৮-র অধীর মন্ডল পেশায় সবজি বিক্রেতা। অধীরের স্ত্রী বছর ৩৮-র নয়নতারা মন্ডল শাড়ি বিক্রি করতেন। এই দম্পতির দুই মেয়ে। তারমধ্যে একজন বিবাহিত। অন্যজনের বয়স দশ বছর। দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল। স্ত্রী নয়নতারার সঙ্গে অন্য কারোর সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করত অধীর। এই নিয়েই দুজনের মধ্যে মাঝে মধ্যেই অশান্তি লেগে থাকত। কিন্তু রবিবার এই অশান্তি চরমে ওঠে। সন্দেহের বশে স্ত্রীয়ের সঙ্গে অশান্তি লেগেছিল অধীর মণ্ডলের। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। আচমকাই হাতের কাছে থাকা একটি বঁটি দিয়ে স্ত্রীয়ের গলায় কোপ বসিয়ে দেয় অধীর। এরপরেই নিজেও ওই ঘরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়। সন্দেহ মানুষকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে এই ঘটনা তাঁরই প্রমাণ।
এরপরে বাড়িতে লোক এসে বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে স্থানীয় লোক জড়ো করে। ঘটনা দেখেই স্থানীয়রা তারকেশ্বর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় তারকেশ্বর থানার পুলিস। হুগলি গ্রামীন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিস সুপার কৃশানু রায় জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা যায় স্ত্রী নয়নতারাকে মেরে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ব্যাক্তি। দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে।ঘটনার আসল কারণ জানতে পরিবারে লোকের সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ। দম্পতির এই মৃত্যু সাংসারিক অশান্তির কারণেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।