নিজস্ব প্রতিনিধি: দুই চোখে হয়তো স্বপ্ন নিয়েই মেয়েটা পাড়ি জমিয়েছিল দুর্গাপুর(Durgapur) থেকে দক্ষিণ ভারতে। সেই স্বপ্নের অকালমৃত্যু ঘটে গিয়েছে শনিবার রাতে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর(Bengaluru) এক হোস্টেলে। রাজ্যের ইস্পাতনগরী হিসাবে পরিচিত তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্যতম মহকুমা শহর দুর্গাপুরের বুকে গোপালপুরের বাসিন্দা ছিল বছর ২০’র দিয়া মণ্ডল(Diya Mondol)। গতকাল রাতে বেঙ্গালুরুতে হস্টেলের ঘরে মিলেছে তার ঝুলন্ত দেহ। বেঙ্গালুরুতে মাদার টেরেসা গ্রুপ অফ ইন্সটিটিউশনে নার্সিং পড়তে গিয়েছিল দিয়া। গতকাল সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও বলে সে। সেই ফোন কাটার ১০ মিনিটের মধ্যেই দিয়ার এক সহপাঠী বেঙ্গালুরু থেকে ফোন করে জানায় দিয়া আত্মহত্যা করেছে। সেই ঘটনা আত্মহত্যা নাকি খুন তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। কার্যত দিশাহারা দিয়ার বাবা-মা ও পরিবারও। ভিন রাজ্য থেকে কী ভাবে মেয়ের দেহ ফিরিয়ে আনবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে দিয়ার বাবা দেবাশিস মণ্ডলও(Debasish Mondol)। এক মাত্র কন্যাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
এরই মাঝে এদিন দুপুরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনেই মুখ খুলেছেন তিনি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল মেয়ের মৃত্যু কী তিনি স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছেন? দিয়া কী কারও সঙ্গে প্রেম করতো? কলেজে কী সে র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছিল? সেই সব প্রশ্নের উত্তরে দেবাশিসবাবু জানান, একটি ছেলে উত্যক্ত করতো দিয়াকে। কিন্তু মেয়ে বিশেষ পাত্তা দিত না। অন্য কারও সঙ্গে দিয়া প্রেম করতো বলেও তিনি জানেন না। দিয়ার বন্ধুরাও এই একই কথা জানিয়েছে। দিয়া কারও সঙ্গে প্রেম করতো না। দেবাশিসবাবু জানিয়েছেন, মেয়ে বেঙ্গালুরুতে র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছে বলে তিনি কখনও শোনেননি। মেয়েও এই বিষয়ে কিছু বলেননি। তাই জোর গলায় বলতে পারছেন না মেয়ে তার খুন হয়ে গিয়েছে নাকি সত্যিই আত্মহত্যা করেছে। তাঁর বিলাপ, রান্নার কাজ করে মেয়েকে ২ বছর আগে বেঙ্গালুরু পাঠিয়েছিলেন নার্সিং নিয়ে পড়তে। এখন তার নিথর দেহ আসবে গোপালপুরের বাড়িতে।
দেবাশিসবাবু এটাও জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে শান্ত স্বভাবের ছিল। প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিলেন নিজের কর্মজগতে। মেয়ের দেহ ঘরে ফিরিয়ে আনার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) যদি এই বিষয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে মেয়ের দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। দিয়া থাকতো কলেজেরই হস্টেলে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সে মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিল। পরে এক বন্ধুর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। এর ১০ মিনিট পর বাড়িতে ফোন আসে দিয়া মারা গিয়েছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল বুঝে উঠতে পারছেন না দিয়ার বাবা-মা। এলাকাবাসী বলছে, দিয়া খুবই ভদ্র। ভালো ছাত্রী ছিল। তবে আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল না পরিবার। সেই কারণে তিনি কোনও মানসিক চাপে ভুগছিলেন, এমনটা হতে পারে বলে পরিবার সূত্রে খবর। তবে আত্মহত্যা না খুন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। দিয়ার বান্ধবীদের দাবি, দিয়া কারও সঙ্গে প্রেম করত না যে সেখানে ধাক্কা খেয়ে আত্মহত্যা করবে। তবে নিজের পড়াশোনা সে শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে চিন্তা ছিল। একই সঙ্গে চিন্তা ছিল চাকরি পাওয়া নিয়েও। দিয়া চাইছিল দুর্গাপুরেরই কোনও হাসপাতালে চাকরি পেতে। কিন্তু সে সব কিছুর আগে তাঁর নিজের জীবনই থেমে গেল।