নিজস্ব প্রতিনিধি : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশের পরেও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে ডিভিসি। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাকে না জানিয়ে অতিরিক্ত জল ছাড়ার জেরে একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই নিয়েই মঙ্গলবার নবান্ন থেকে ডিভিসিকে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেও কথা কানে না নিয়ে ফের জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মাইথন থেকে ১৮ হাজার কিউসেক ও পাঞ্চেত থেকে ৩৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। প্রায় ৫৫ কিউসেক জল ছাড়ায় বাংলার বিস্তির্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে।
প্লাবন পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ডিভিসিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্য সরকারের কথাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ডিভিসি। না জানিয়েই ইচ্ছামতো জল ছাড়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, ভারী বৃষ্টির জেরে ভেসে যাচ্ছে বাংলা। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টি ছেড়ে দুর্ভোগে পড়ছে বাংলা। বারবার বলা সত্ত্বেও কথা শুনছে না ডিভিসি। পাঞ্চেত, মাইথন থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। বর্ষায় সবথেকে বেশি ভোগান্তি হয় বাংলার।
টানা বৃষ্টির কারণে রূপনায়ারণ, মুণ্ডেশ্বরী সহ রাজ্যের একাধিক নদী ফুঁসছে। ঘাটাল সহ খানাকূল, আরামবাগ রাজ্যের একাধিক এলাকার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রূপনারায়ণ ও মুণ্ডেশ্বরীর সংযোগস্থলে এবার দুইটি নদী উপচে পানশিউলি বাজার প্লাবিত হয়েছে। একাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চাষের জমিতেও ঢুকেছে জল। নষ্ট হচ্ছে ফসল। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর জল। ঘাটাল সহ একাধিক জায়গায় জল জমে যাওয়ায় নৌকার ওপরেই ভরসা করতে হচ্ছে। কেঠিয়া ও শিলাবতী নদীর জল বাড়ছে হু হু করে। নতুন করে বেশি পরিমাণে জল ছাড়ার পলে ফের আতঙ্ক বাড়ছে। বন্যা পরিস্থিতি আরও খআরাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে মানুষ।