নিজস্ব প্রতিনিধি, দিঘা : মাহেন্দ্রক্ষণ মেনে বেদ-পুরাণমতে আচার অনুষ্ঠান সহযোগে দ্বারোদঘাটন হল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। উদ্বোধনের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বলেছেন, দিঘার এই মন্দির আগামী হাজার হাজার বছর ধরে তীর্থস্থান হিসেবে মানুষ জানবে। পাশাপাশি পর্যটনস্থল হিসাবে উন্মাদনার বাড়াবে। সকলের জন্যই এই মন্দির। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, সবারে করি আহ্বান।
বুধবার দিঘায় মন্দির উদ্বোধনের আগে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ৩ বছর ধরে যাঁরা মন্দির তৈরির কাজ করেছেন তাঁদের সকলকে কৃতজ্ঞতা। মন্দিরের শিল্পী-স্থপতিদের অভিনন্দন। মন্দির চত্বরে ৫০০টির বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। সকলের সহযোগীতা না পেলে এই কাজ এত ভালোভাবে সম্পন্ন হত না।
তিনি জানিয়েছে, গত ৭দিন ধরে কলসযাত্রা-যজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। মন্দিরের শীর্ষে রয়েছে বিষ্ণুর অষ্টধাতুর চক্র। এদিন তিনি বলেছেন, বাংলার প্রতি বাড়ি বাড়ি প্রসাদ ও জগন্নাথের ছবি পৌঁছে দেওয়া হবে। এখানেই শেষ নয়, দেশের নামকরা মানুষদের কাছেও এই প্রসাদ পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন।
তাঁর কথায়, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। এই মন্দির দিঘায় ধর্মীয় তরঙ্গ তৈরি করবে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পরেই দ্বার উন্মোচন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রার বিগ্রহে আরতি করেছেন তিনি। নিমকাঠের তৈরি মূল বিগ্রহের সঙ্গে রয়েছে পাথরের মূর্তিও। রয়েছে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহও। বুধবারই পুরীর মন্দিরের প্রধান সেবায়ত রাজেশ দ্বৈতাপতির হাত ধরে প্রাণ প্রতিপ্রতিষ্ঠা হয়েছে মূল জগন্নাথ বিগ্রহের।
দ্বারোদঘাটনের আগে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা গান গাইলেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁরপর গান গেয়েছেন নচিকেতা, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচি, ইমন চক্রবর্তী। এরপরেই নৃত্যানুষ্ঠান করেছেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় তাঁর নাচের দল।